‘বর্ণহীন কষ্ট’

  • 16 July
  • 10:29 AM

এস. এইচ. শান্ত, শিক্ষার্থী (জবি) 16 July, 20

হঠাৎ এক্সিডেন্ট!!!
একটা বাসের সাথে ট্রাকের ধাক্কায় বাসের সব যাত্রিদের মধ্যে অনেকে মারা গেছে আর বাকিরা গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গল্পের নায়ক ও আছে, কিন্তু সে মারা গেছে ঘটনাস্হলে।
সবাইকে মেডিকেল এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, মৃতদের সবার আত্মীয়রা নিয়ে গেছে কিন্তু আদিত্যের মানে নায়কের মরদেহটা কেউ নিতে এলো না।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলো এর মধ্যে আদিত্যের গ্রামে এক লোক মেডিকেল এ আদিত্যের মরদেহ দেখে ওর বাড়িতে খবর দিল। তারা এসে মৃতদেহ টাকে বাড়ি নিয়ে গেলো।

আদিত্যে মারা যাবার কথা তার মা মেনে নিতে পারছিল না, তিনি বার বার অচেতন হয়ে যাচ্ছিল, যাবে না কেন?
অভাবের সংসারে আদিত্যই ছিল একমাত্র সম্বল। এ দিকে আদিত্যের প্রেমিকা রাতিয়া খবর শুনে মৃতপ্রায়। মেয়েটা খুব ভালোবাসে আদিত্যকে। তাদের প্রেম শুরু হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। মেয়েটা খুব চঞ্চল, সবাইকে মাতিয়ে রাখে। তবে খুবই মেধাবী, তার ইচ্ছা বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া।
ইচ্ছার দিক থেকে আদিত্যে সাথে খুবই মিল।কিন্তু অভাব অনটনের জন্য আদিত্যের ডাক্তার হওয়া স্বপ্নটা পুরণ হয়নি।

আদিত্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ বি.এস.সি (অনার্স) এ পড়ে।
আদিত্য লালন করা স্বপ্নটা রাতিয়াকে দিয়ে পূরণ করার জন্য সবসময় রাতিয়াকে সাপোর্ট দিত।

রাতিয়া ছিল সচ্ছল পরিবারের মেয়ে,আদিত্যের দারিদ্রতার কথা, তার পরিবারের কথা সবকিছু জেনে শুনেই রাতিয়া আদিত্যকে ভালোবাসতো।
কিন্তু কে জানতো এই ভালোবাসার মানুষটি তাকে একা এভাবে ফেলে রেখে অচিন দেশে চলে যাবে।

এদিকে আদিত্যের মরদেহ দাফনের ব্যবস্হা শুরু করে দিয়েছে। বাড়িতে শোকের ছায়া পড়ে গেছে, গ্রামে সবাই আদিত্যকে খুব ভালোবাসে।
আদিত্য খুবই কম কথা বলতো,সবার সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করতো। তাই এভাবে চলে যাওয়াটা কেউই মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু বিধাতার লিখন তো মেনে নিতেই হবে।

হঠাৎ,
বাড়ির সামনে অনেক মানুষের ভীড়, সবাই বলাবলি করছে এটা কেমনে সম্ভব??
আদিত্যের মরদেহ গোসল করানো হচ্ছে,কিন্তু আদিত্য এখানে কেমন করে!!!
এ কথা গুলো শুনে সবাই তাকে দেখতে ভীড় জমাচ্ছে।।

আসলে যে মারা গেছে সে আদিত্য না, তার নাম রিহান। কিন্তু দেখতে হুবহু আদিত্যের মতো, মনে হচ্ছে আদিত্যের জমজ ভাই।
আদিত্য ফিরে এসেছে দেখে মৃত ব্যক্তির মানি ব্যাগ চেক করে দেখলো তার নাম রিহান।
আদিত্য ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে এসেছে, আজ বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেছিলো, বাড়িতে ফিরতে একটু দেরি হয়ে গেছে।
কিন্তু ফিরে এসে যা দেখলো, তা দেখে রীতিমতো হতবাক।

আদিত্য বেঁচে আছে দেখে মা আর রাতিয়া খুব খুশি, গ্রামের মানুষ ও খুশি। সবাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছে।
এখন সবার প্রশ্ন একটাই মৃত মানুষটি কে??
এদিকে আদিত্যকে ফিরে পেয়ে মায়ের আর কিছু মনে নেই,
মা হঠাৎ চিৎকার করে বলল মৃত মানুষটি আর কেউ না ও আমার আর একটা সন্তান!

মা বিষয়টা পরিষ্কার করে বলল, মায়ের দুইটা জমজ ছেলে হয়েছিল।
খুব কষ্টের সংসারে দুটা সন্তানকে মানুষ করা তাদের সম্ভব ছিল না। তাই ধাত্রির কথায় একটা ছেলেকে অন্যের কাছে দিয়েছিলো।
ধাত্রি বলেছিলো তার এক ধনী আত্মীয় আছে যাদের কোন সন্তান হয় না।
তাদের কাছে দিলে সে খুবই ভালোভাবে মানুষ হতে পারবে। অনীচ্ছা সত্ত্বেও মা কাউকে না জানিয়ে ছেলেকে তাদের কাছে দেয় কিন্তু মায়ের শর্ত ছিল যখন ইচ্ছা তখন ছেলেকে দেখতে যাবে।

অনেক দিন হয়ে গেলে মা ছেলেকে দেখতে যেতে চাইলে তখন সেই ধাত্রির বাড়িতে গেলে জানতে পারে ধাত্রি মারা গেছে। পরে জানতে পারলো ধাত্রি ছেলেটাকে বিক্রি করে দিয়েছিলো। ঠিকানা না থাকায় ছেলেকে কোনদিন মা দেখতে পায়নি।।কতো কেঁদেছে হারানো সন্তানের জন্য।
আজ যখন ছেলেকে কাছে পেয়েছে তখন ছেলেটি পরকালের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে।
মায়ের কান্না তো চিরদিনই থেকে গেল,
হারানো ছেলে কাছে ফিরে আসলো কিন্তু মৃত অবস্থায়।
আদিত্য ও খুব আফসোস করতে লাগলো মৃত ভাই এর জন্য, রাতিয়া আদিত্য আর মাকে সান্ত্বন দিতে লাগলো।


লেখক-
এস. এইচ. শান্ত
বি.এস.সি (অনার্স) সাইকোলজি
এম.এস.সি (মাস্টার্স) ইন্ডাস্ট্রিয়াল
অর্গানইজেশনাল সাইকোলজি,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়