বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হোক 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' (দ্বিতীয় অংশ)

  • 12 Dec
  • 03:35 PM

জান্নাতুল মাওয়া শশী 12 Dec, 20

সার্বিক বিবেচনায় প্রকৃত ডিজিটাল বিপ্লব দৃশ্যমান হয় জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন। তিনি তার নিজ দলে কম্পিউটার প্রচলন করেন ১৯৯১ সালে। ৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি ডিজিটাল বার্তা সংস্থা (আনন্দপত্র বাংলা সংবাদ বা আবাস) ব্যবহার করেন। ৯৮/৯৯ সালের বাজেটে শেখ হাসিনা কম্পিউটারের ওপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেন, ৯৭ সালে মোবাইলের মনোপলি ভাঙেন, অনলাইন ইন্টারনেটকে সচল করেন ও দেশে বছরে দশ হাজার প্রোগ্রামার তৈরির নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সময়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানির উপায় উদ্ভাবনের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করে ৪৫টি সুপারিশ নিয়ে তার ২৮টি বাস্তবায়ন করেন। ৯৭ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের কারণে সেই উদ্যোগ পরিত্যক্ত হয় যা ২০০৯ সালের পর আবার সক্রিয় হয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৫৭তম দেশ যাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। ২০১৮ সালের ১২ মে উপগ্রহটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ৯ নভেম্বর ১৮ উপগ্রহটির টাইটেল বাংলাদেশকে হস্তান্তর করা হয়। বাঙালির সেই ক্ষুদ্র স্বপ্ন থেকে স্বপ্ন সেদিন আকাশ ছুঁয়েছিলো। বাঙালির স্বাধীনসত্তা বিকাশের বড় প্রতীক জয় বাংলা খচিত 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১'। 'মহাশূন্যে সদা জাগ্রত,সদা তৎপর'। সম্প্রসারণের 'নতুন দিগন্ত ' স্বপ্নের ডিজিটাল জানালা খুলে দিয়েছে মহাশূন্যে ডানা মেলা 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' উন্নয়নের অভিনব যাত্রায় এগিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা সরকারের নতুন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের উপগ্রহ সম্প্রচার মাধ্যম এটি এখন ব্যবহার করছে। দেশের সবকটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ১৯ মে থেকে 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' ব্যবহার করছে। এ ছাড়াও এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডিটিএইচ সেবার সূচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে যে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে ঘোষণা দেন। তার মূল শিরোনাম ছিল 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ১২ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ডিজিটাল বিপ্লবের ঘোষণা আসে। এদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে 'ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান' বা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করা হয়। যেখানে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিনত হবে। একটি উন্নত দেশ , সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী রুপান্তরিত উৎপাদন ব্যবস্থা,নতুন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির - সব মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বস্তুত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান। বর্তমান বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবার পথে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি সময়।ডিজিটাল সময়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সেবা পৌঁছে গেছে জনগণের দাঁড়গোড়ায়। স্যাটেলাইট এর মধ্য দিয়ে স্যাটেলাইট ও এন্ড্রয়েড টিভি স্মার্টফোন গেজেট পঞ্চম প্রজন্মের ফাইভ জি মোবাইল, ওয়াইফাই, ইন্টারনেট ও দুর্গম এলাকায় টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তিতে এনেছে দুর্দান্ত গতি। মাত্র দশ বছরের মধ্যে সব কিছুতেই প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল হয়ে উঠেছে। হাতে অ্যাণ্ড্রয়েড তথ্যপ্রযুক্তির ছড়াছড়ি। ডিজিটাল কমিউনিকেশন প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসে গেছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও চাহিদার ধরন।আমাদের বহুল ব্যবহৃত একটি মাধ্যম হলো ফেসবুক ছয় কোটির বেশি বাংলাদেশী বর্তমানে ফেসবুকের ব্যবহার করে। ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা গড়ে উঠেছে, ডিজিটাল মার্কেটিং ঘরে বসে নিজের ইচ্ছামতো খুব সহজে জিনিসপত্র কেনা বেচা করা যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি পড়াশোনা হয়েছে ডিজিটাল। করোনা মহামারী তে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে এই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এনেছে অনন্য সাহায্য সেবা এখন দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা ও জেলায় ৫ হাজার ২৭৫ টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেয়া হয়। প্রতারণা ও সহিংসতার শিকার হলে জরুরী প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সেবা পাচ্ছি আমরা। ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবা ভোগ করছে।অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক গুরুত্ব গ্রহণ করছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। টেকসই উন্নয়নের নিশ্চিত করার নিঃসন্দেহে অবদান রেখেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের উপরে।

বর্তমানে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' এনে দিয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরে প্রজন্মের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। বর্তমান বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চোখেই দেখা যাচ্ছে। দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা, দক্ষিণ এশীয়ার সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হতে বেশিদিন বেশি দিন আর নাই অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশের তালিকা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপান্তরের পথে, আর এই স্বপ্ন এবার তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার মধ্য দিয়ে সত্যি হতে চলেছে।
জান্নাতুল মাওয়া শশী
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।