‘ফিরতে চাই ১০১ একরে’

  • 21 June
  • 04:34 AM

আশরাফুল ইসলাম রনি, কৃষি বিভাগ (নোবিপ্রবি) 21 June, 20

কেমন আছে ক্যাম্পাস? কেমন আছে ক্যাম্পাসের প্রিয় বন্ধুরা? করোনা মহামারীতে দীর্ঘসময় ঘরবন্দি থেকে ক্যাম্পাসের সেই ব্যস্ত দিনগুলোর কথা ভীষণভাবে মনে পড়ছে। মিস করছি ১০১ একরের প্রিয় ক্যাম্পাস নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখগুলোকে। রায়হান রাহী দাদার গানের সাথে সুর মিলিয়ে উচ্চস্বরে গাইতে ইচ্ছে করছে-
'আমার ধুলোবালি জমা বই, আমার বন্ধুরা সব কই!!
ভাল্লাগে না মিথ্যে শহর
রাতের আড়ালে রই।

দিনের পর দিন যাচ্ছে,অপেক্ষার প্রহর যেন কাটছে না।প্রিয় ক্যাম্পাসে কবে ফিরতে পারব তাও অজানা। আমাদের আনাগোনায় ব্যস্ত ক্যাম্পাস আজ নীরব। আমাদের আনাগোনায় ব্যস্ত সেই ক্লাসরুম, ধুলোবালি আস্তরণ পরা ক্লাস রুমের বেঞ্চগুলো,সেন্ট্রাল ফিল্ড, নীলদিঘীর পাড়,গোলচত্বর,শান্তিনিকেতনে আজ জনশূন্য। মিস করছি ক্লাসরুম,প্রাক্টিক্যাল কিংবা ফিল্ড ওয়ার্কের মিষ্টি যন্ত্রণা। মিস করছি আমার ক্লাসের প্রতিটি প্রাণকে, তাদের সাথে দেয়া আড্ডা,দুষ্টামি,মান -অভিমানের সময় গুলোকে।

করোনায় পৃথিবী থমকে যাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তেই মেঘের দেশ সাজেক ভ্রমনে গিয়েছিলাম গত ১০ই মার্চ।চান্দের গাড়ি,কংলাক পাহাড়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন, রিসোর্টে ফিরে রাতে গানের আসর, রাঙ্গামাটি হর্টিকালচার এন্ড ইকোপার্ক, আলুটিলা গুহার মনোরম দৃশ্য কিংবা ক্যাম্পাসের নীলদিঘীর পাড়ে চড়ুইভাতি এসব স্মৃতি মনকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। চারদিকে কেবল শুন্যতা,গৃহবন্দী জীবন এ যেন খাঁচায় বন্দী পাখির মতো মুক্তির স্বাদ নিতে ছটফট করছে।

অলস সময়কার বন্দী জীবন দ্রুতই কেটে যাবে।কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে প্রতিটি প্রাণ এইটায় প্রতিদিনকার প্রার্থনা। করোনার দিন শেষ হবে একদিন মহান আল্লাহর কৃপায়।এই আশায় নিয়ে প্রতিটি প্রিয় মুখ যেন সুস্থ থাকে তাদের পরিবার নিয়ে। দেখা হবে বন্ধু, সময়ে অসময়ে লালবাস, ১০ তলার সেই ডিপার্টমেন্ট করিডোর,পার্ক ক্যান্টিন,হলের ডাইনিংয়ে কিংবা সেন্ট্রাল ফিল্ডের পাশের সেই টংয়ে চায়ের আড্ডায়।আবারো সমুদ্র,পাহাড়, ঝর্ণাধারায় যাব ঘুরাঘুরি হবে,আড্ডা হবে, প্রাণোচ্ছল হবে প্রতিটি প্রাণ।