ইবির সেই ফারুকের দ্রুত বিচারসহ ৬ দাবি শিক্ষার্থীদের

  • 20 June
  • 10:01 PM

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি 20 June, 21

প্রায় দুই ডজন ছাত্রী উত্যক্তকরণে অভিযুক্ত সেই ফারুক হোসেনের দ্রুত বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় তাদের হাতে ‘নারী নিপীড়নে বিলম্ব কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বখাটে শূন্য ক্যাম্পাস চাই’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করুন’, ‘সাইবার বুলিং মানসিক রোগ নয়, এটি জঘন্য অপরাধ’সহ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত ফেস্টুন দেখা যায়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

তাদের দাবি- অভিযুক্ত ফারুকের অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্বেও প্রশাসনের টালবাহানা বন্ধকরণ, অনতিবিলম্বে শাস্তি না হলে ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর অভিযোগ প্রেরণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, সাইবার বুলিং রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান এবং ক্যাম্পাসে যৌন নির্যাতন সেলের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ।

মানববনন্ধে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ফারুক হোসেন দিনের পর দিন তার ব্যাচমেট, সিনিয়র ও জুনিয়র মেয়েদের উত্যক্ত করেই যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেখানে প্রশাসন টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করেই চলেছে। অপরাধীকে বাঁচানের জন্য সবরকম পন্থা অবলম্বন করছে তারা। এক ফারুকের বিচার না হলে বাকি ফারুকরা আরো মাথাচারা দিয়ে উঠবে। ইবি প্রশাসন অবিলম্বে বিচার নিশ্চিত না করলে আমরা ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এর বিচার চাইবো।’

মানববন্ধনে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন আজাদ, তন্ময় সেন, আইন বিভাগের আবুজার গিফারী, ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ফয়সাল আহমেদ, মোস্তা হাবিবুল ইসলাম, আল-ফিকহ এন্ড লিগাল স্টাডিজ বিভাগের ওয়ালীউল্লাহ, বাংলা বিভাগের শ্যামলী তানজিন অনু, ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হুমায়রা আনজুম অন্তুসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এনিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হুমকির শিকার হলে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এরপত অন্তত ২০ জন ছাত্রীর অভিাযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার দীর্ঘ ১ মাস ৮ দিন পর গতকাল শনিবার (২০ জুন) তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।