প্লাস্টিক দূষণ রোধে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা

  • 24 July
  • 08:06 AM

পার্থিব, পবিপ্রবি 24 July, 21

"প্লাস্টিক" বর্তমান সময়ে নিত্য ব্যবহার্য একটি পণ্য। আমরা প্রতিনিয়ত নানা প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে এই " নন- বায়োডিগ্রেডেবল" বা " অজীবাণুবিয়োজ্য" প্লাস্টিক ব্যবহার করছি এবং পরিবেশকে বিপর্যয় এর মুখে ঠেলে দিচ্ছি। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনে সর্বত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে। প্লাস্টিকজাত পণ্য যেমনঃ পলিব্যাগ, বোতল, কনটেইনার, হোটেল- রেঁস্তরায় ব্যবহৃত একবার ব্যবহারযোগ্য খাবারের প্যাকেট ইত্যাদিসহ করোনাকালে ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ফেসশিল্ড, মাস্ক- এসব পণ্য আমাদের আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে। একবার ব্যবহার করা পণ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে এগুলো বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে, যা পরবর্তীতে জলজ ও বণ্যপ্রাণীর আবাসস্থল, এমনকি মানবজাতির উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, দেশটির তরুণ এবং যুব জনগোষ্ঠী যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে তারা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
অথচ এই তরুণ সমাজ থেকেই সবার আগে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করাকে প্লাস্টিক দূষণ রোধের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস করে প্লাস্টিককে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এক জরিপে দেখা গেছে মাত্র ৯ শতাংশ প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে, যা পরিমাণের তুলনায় খুবই নগণ্য। এক্ষেত্রে তরুণ এবং যুব জনগোষ্ঠী তাদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন প্লাস্টিকের বোতল, কৌটা, ড্রাম থেকে নতুন বিভিন্ন আসবাবপত্র, শৌখিন জিনিসপত্র ইত্যাদি তৈরি করে তারা করোনা আপদকালীন সময়ে যেমন নিজেদের ক্ষুদ্র কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি পরিবেশ দূষণ রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। প্লাস্টিকের বোতল থেকে পলিস্টার ফাইবার তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় করছে, যা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। অপরদিকে প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার ও পলিথিন রিসাইক্লিং করে কালি ও তেল উৎপাদন করা সম্ভব।

এছাড়াও প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক প্রচারণা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশ সুস্থ থাকলেই সুস্থ থাকবে জীবকুল।