প্রাণ ফিরেনি সদরঘাটে

  • 24 May
  • 04:30 PM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ 24 May, 21

প্রায় দুই মাস পর সোমবার থেকে চালু হয়েছে লঞ্চ চলাচল। ঢাকা নদী বন্দর সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও প্রাণ ফিরেনি ঘাটে। শোনা যায়নি লঞ্চের সাইরেন আর দেখা যায়নি কুলিদের হাকডাক আর যাত্রীদের ভিড়।
 
সোমবার সকাল ১১ টায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেয়া যায় ফাঁকা সদরঘাট। নেই যাত্রীদের লঞ্চে উঠার তাড়া কিংবা কুলিদের মালমাল বহন করার ব্যস্ততা। তবে লঞ্চের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় কর্মচারীরা নানা বিষয়ে গল্প করছেন। যাত্রীদের জন্য প্রস্তত করছেন লঞ্চ।

মর্নিংসান লঞ্চের ইন্সপেক্টার মোঃ নাসির উদ্দীন বলেন, সরকারি নির্দেশ অনুসারে আমরা লঞ্চ পরিচালনার জন্য সকল ধরনের  প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আজ সন্ধ্যা থেকে আমরা যাত্রা করব। আমরা সরকারি নির্দেশ অনুসারে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই যাত্রা শুরু করব।

সৌরভ লঞ্চের কর্মকতা ফিরোজ বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করছি না। কেননা টিকেটের মূল্য কেমন হবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কিছুই বলা হয় নি। তাই আমরা সরেকারি নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। এর আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালুর ক্ষেত্রে আমাদের অর্ধেক যাত্রী নিতে বলা হয়েছিল। তাই ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি। তাই টিকেটও বিক্রি করছি না।

বরিশাল গমনেচ্ছুক যাত্রী সোহেল পারভেজ বলেন, পরিবারসহ বাড়িতে ঈদ করতে পারিনি। তাই পরিবারের সবার জন্য টিকেট কাটতে এসেছি। কিন্তু দাম নির্ধারণ না হওয়ায় টিকেট দিচ্ছে না। এদিকে বরিশাল যেতে ইচ্ছুক যাত্রীগণ ইতোমধ্যে কিছু কিছু লঞ্চের ডেকে ভিড় করা শুরু করেছেন।
 
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ এর যুগ্ন পরিচালক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, লঞ্চে যাতে কেউ অর্ধেকের বেশি যাত্রী নিতে না পারে সেটি তদারকি করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ঠিক মতো পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি পর্যক্ষেণ করার জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের সহযোগিতায় আমরা যাবতীয় সতকর্তা মেনে চলতে পারব। একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ সকাল ১১ পর্যন্ত ১৫ লঞ্চ ঢাকা নদী বন্দর থেকে ১৫ টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে এবং ২ টি লঞ্চ ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তবে দূরের লঞ্চ গুলো এখনও আসেনি। এগুলো সব চাঁদপুরের লঞ্চ। তবে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালি, হোলারহাটসহ দূরের লঞ্চগুলো এখন আসেনি কিংবা ছেড়েও যায়নি।

এদিকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে কয়েক লাখ মানুষ গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন। যদিও ঈদের আগে বাস-ট্রেন-লঞ্চ সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ ছিল। কিন্তু মানুষ নানা উপায়ে তাদের বাড়ি ফিরেছিলেন। শত দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি গিয়েছেন। সেই উৎসব আনন্দ শেষে এখন কর্মে ফেরার পালা তাদের।