‘প্রাণের ক্যাম্পাস স্মৃতিতে অমলিন’

  • 31 July
  • 09:16 AM

জাফর আহমেদ শিমুল, স্টাফ রিপোর্টার (ডিআইইউ) 31 July, 20

আজ ৩১-শে জুলাই, বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসের ঠিক একদিন বাদেই বন্ধুত্বময় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসময় বন্ধুত্ব নিয়ে লিখতে বসেছি স্মৃতিময় কিছু কথা।
ক্যাম্পাসের সেই স্মৃতি গুলো,
ফেলে আসা দিনগুলো
স্মৃতির আকাশে বারবার উঁকি দিয়ে যাবে যেদিন ক্যাম্পাস থেকে একেবারেই বিদায় নিয়ে আসবো।ভোলা যাবে না,ভোলা সম্ভব নয় মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নেওয়া সেই নানা রঙের দিনগুলি।

স্নেহ,বন্ধুত্ব,সম্মান,ভালবাসা,আন্তরিকতা,
বন্ধুসুলভ শিক্ষকদের ভালোবাসা শব্দগুলো একই সূত্রে গাঁথা।বাড্ডা সাঁতারকুলে অবস্থিত ভালবাসার ক্যাম্পাসের মুখরিত সাড়ে ৩-বছরের স্মৃতি আজও অমলীন ও মধুর বটে। ক্যাম্পাসের দিনগুলির কথা মনে করলেই অনেক স্মৃতি বিজড়িত সময়ের কথাগুলো মনের আয়নায় ভেসে ওঠে। কতই না মধুর ছিল সেই সময়গুলো। বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের অদূরে বালু নদীতে বিকেলে ঘুরতে যাওয়া,গলা ছেড়ে সমস্বরে গেয়ে ওঠা গান "তোরা ছিলি তোরা আছিস
,জানি তোরাই থাকবি,
বন্ধু বোঝে আমাকে",
ভালোবাসার জয় গান গেয়ে ওঠা,
ক্যান্টিনে সবাই মিলে কফিতে চুমুক,
জামান মামার চায়ের দোকানের লাল চা,
আড্ডাবাজি,মাঠের ফুটবল খেলা।

"এলিট ক্লাবে"র নেতৃত্বে ইউনিভার্সিটির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডেকোরেশান থেকে শুরু করে গান-বাজনার রিহার্সাল,শিক্ষকদের বসার বিশেষ আসন প্রস্তুত করা বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথির জন্য ফুলেল শুভেচ্ছা পর্ব পরিচালনা,"ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির একজন সাংবাদিক হয়ে ক্যাম্পাস সম্পর্কিত নানান নিউজ কাভার করা,ইউনিভার্সিটি"র ২৫-বছর উপলক্ষ্যে ফিচার লিখা, অন্যান্যদের অনুপ্রাণিত করা,ডিপার্ট্মেন্টের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে যুক্তির মার-প্যাঁচে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করা, মেধা,মননে,সৃষ্টিশীল,ও প্রকৃত আধুনিক সমাজ গঠনের মনোভাব নিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখা ও বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা করা,শিক্ষকদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা অর্জনে ক্যাম্পাসের কর্মকান্ডে মনোনিবেশ করা আজ যেনো সবই স্মৃতি।করোনার কড়াল গ্রাসে সবই যেনো ভুলে যেতে বসেছি।জানি না আন্ডারগ্র‍্যাজুয়েশানের আর দুটি সেমিষ্টারের কোনো ক্লাস ভার্সিটির শ্রেণি কক্ষে শিক্ষকদের সামনে বসে করতে পারবো কি না।তবুও আশা বেঁধে রাখি।

দীর্ঘ এক দশকের স্কুল জীবন,দুই বছরের কলেজ জীবন,ব্রিটিশ কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষণ পদ্ধতির উপরে কোর্স শেষ করে প্রবেশ করেছিলাম স্বপ্নের ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসে। যেখানে যৌবনাদীপ্ত তরুণ তরুণীরা পায় অগ্রীম আনন্দ-সাগরে ভাসার এক অনাবিল প্রশান্তি। সমমনাদের নিয়ে গঠিত হয় বন্ধুত্ব ও ভালবাসার এক নিবিড় বন্ধন। দেশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আগত ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন সংস্কৃতি,ভিন্ন ধর্মের ছেলে-মেয়ে গুলো হয়ে ওঠে এক আত্নার একই প্রাণ।শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীদের মতে এখানেই ঘটে মেধার বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার বাতিঘর। এই বন্ধুত্ব জাতি, ধর্ম,বর্ণ,জাতি সব কিছুর ঊর্ধ্বে। শেখায় আমাদেরকে সহমর্মিতা,সমব্যাথী বিনয়ী ও দূরদর্শী হতে। বন্ধু ছাড়া ক্যাম্পাস যেন এক মরুভূমি। নিবিড় প্রয়োজনে বন্ধুরাই অবতীর্ণ হয় মা, বাবা,ভাইয়ের ভূমিকায়।
তাই বন্ধুদের কাছে আজীবন রয়ে যায় বন্ধুত্বের ঋণ।

আর এই বন্ধুত্বের বন্ধনকে মজবুত করতে হলরুম থেকে শুরু করে ক্লাস ফাঁকি, প্রক্সি, গানের আসর, মামার চায়ের দোকানের আড্ডা, দলবেঁধে ঘুরাঘুরি, রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে হলের ছাদে গান গাওয়া, চাঁদা তুলে জন্মদিন পালন করার একেকটি অধ্যায় যেন মিশে গেছে রক্তের সাথে। এসব স্মৃতিকে মনের গহীনে গেঁথে রাখতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন মুভি উৎসব, স্মৃতিকথা,গান-বাজনা আর নানারকম হইহুল্লোড় এর মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের এই দিনটি পালন করেছিলাম। সারাদিন ধরে চলেছিলো অবিরত রঙের খেলা।

বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সাড়ে তিন বছরের বর্ণিল স্মৃতিগুলো কথায় কথায় আপন-আলাপনে লিপিবদ্ধ হয়ে গেল স্মৃতির ভান্ডারে। ডিপার্টমেন্ট থেকে বনভোজনের উদ্দ্যেশ্যে বাসে চড়ে চিৎকার করতে করতে যাওয়া ,টি শার্ট পরে সেই স্নিগ্ধ,মুক্ত পিকনিক স্পট আনসার একাডেমিতে ঘোরা,কুমিল্লার ময়নামতিতে বনভোজনে যাওয়া এখনো স্মৃতির অ্যালবামে সংরক্ষিত।বেজে উঠেছে প্রায়ই বিদায়ের ঘন্টা, তাইতো তারুণ্যের কবি রুদ্র মাহমুদের কাব্য ভাষায় মন বলতে চাইছে,
‘‘পাসনে কষ্ট বিদায়ে,
রেখেছি তোদের হৃদয়ে,
দেখা হবে বিজয়ে"
এমনি শত-সহস্র স্মৃতিতে দিয়ে ঘেরা আমাদের ছোট্ট ক্যাম্পাসটি।করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে আবারও ফেরার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছি আমরা ক্যাম্পাসভক্ত
ছাত্র-ছাত্রী।
আমার ক্যাম্পাসের কথা মনে পড়তেই স্মৃতি কথন বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় সেই চমৎকার স্মৃতিজাগানিয়া গানটি—
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
কান্না-হাসির বাঁধন তারা সইল না
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি"

ভোরের স্নিগ্ধ আবেশে ও অবিচ্ছিন্ন নীরবতায় গানটি শুনতে শুনতে কখন যে চোখ দুটো বন্ধ করে হারিয়ে গিয়েছিলাম অতীতের সেই দিনগুলোতে, বুঝতে পারিনি! সেই দিনগুলোতে, যে দিনগুলো হৃদয় পটে আজও অমলিন হয়ে আছে আমার সেই সব নানান রঙের দিনগুলি। শ্রান্তপথের ক্লান্ত পথিকের মতো পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, গত হয়ে গিয়েছে ৫-টি মাস,হয়তো করোনার মতো প্রাকৃতিক অভিশাপ কেড়ে নেবে আরও অনেক মূল্যবান সময় ক্লান্তি এনে দেবে মনে-প্রাণে। সময়ের অবিশ্রান্ত ধারায় চলমান সময়ের মাঝে বিলীন হয়ে যায় জীবনের মুহূর্তগুলো প্রতিনিয়ত। আমরা হেঁটে যাই জীবনের একপ্রান্ত হতে অন্যপ্রান্তের দিকে ক্রমশ,ক্রমাগতভাবে অনন্তের দিকে।হয়তো আমাদের সমাজ জীবনে ও ব্যক্তিজীবনে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসবে,কিন্তু ক্যাম্পাসকে ঘীরে আমার এই স্বচ্ছ ও আবেগী অনুভূতি শেষ হবার নয়।এ সেই অনন্ত যে অনন্তের শুরু আছে অন্ত বা শেষ নেই।
সারাদেশে,আমার ও আমাদেরই মতো ক্যাম্পাস ভক্ত ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাসকে ঘিরে শত-সহস্র,আবেগী,সুন্দর ও বৈপ্লবিক স্বপ্নের জয় হোক, ভালোবাসার জয় হোক।
ভালো থাকুক আমাদের সবার প্রিয়
স্বপ্নের ক্যাম্পাস,ভালোবাসার ক্যাম্পাস!