‘প্রভাব বলয়’

  • 20 Sept
  • 01:43 PM

তানভীরুল ইসলাম, শিক্ষার্থী (ইবি) 20 Sept, 20

আজ এক গল্প শোনাবো। একদা এক মহৎ প্রাণীর জন্ম হলো। তার কর্ম ও মর্যাদা বিবেচনায় সে নিজেকে গাধা বা চতুষ্পদ কোনো প্রাণীর কাতারে অনায়াসে যুক্ত করতে পারবে তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেহ। দিনের পর দিন তার মনিবকে অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখিয়ে নিরলস শ্রম দিয়ে গেছে। যতদিন সে এভাবে আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিত্বহীন ভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিল তার অবস্থান ছিল ভালো ও সুশৃঙ্খল দের দলে।

এভাবেই বহুকাল কেটে গেলো। শরতের ভেসে চলা সাদা মেঘের ভেলা। শীতের কনকনে ঠান্ডা হাওয়।
বসন্তের ধরে পরা পাতা। সকলই সাক্ষী। সময়ের স্রোতে সকল সত্ত্বাই নিজের বৈশিষ্ট্য ও ব্যাক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটায় নয়তো রূপান্তরের চাদরে ঢেকে ফেলে নিজেকে।

হঠাৎ একদিন সেই প্রাণের মাঝে বিবেকের দংশন ঘটে গেল ও তা থেকে জন্ম নিল তার অপন সত্ত্বা।
অদ্ভুত এক জীবন খুঁজে পেল সে। সব অমূলক শৃঙ্খলার বেড়াজাল ভেঙে সে প্রথমবারের মতো নিজে থেকে ভাবতে শিখলো। চিন্তার স্বাধীনতা যেন তার মাঝে স্বর্গীয় আনন্দের সঞ্চার ঘটিয়ে অন্য এক জগতে নিয়ে গেল। এখন সে সম্পূর্ণ এক বিবর্তিত প্রাণী...

সমাজ বিবর্তন ও পরিবর্তনকে সহজে গ্রহণ করতে পারে না, যার ফলে এখন তার অবস্থান হলো বিশৃঙ্খল ও বেয়াদবের কাতারে, কারণ সে স্বাধীন চিন্তা করতে শিখেছিল। যে নিজেকে আংশিক হলেও বুঝতে পেরেছে। তার মাঝে আর যাই থাকুক নাহ কেন দাম্ভিকতা ও ব্যক্তিত্বটা থাকে। সেটা আর যাই হোক অহংকার নয়।

বেশ কিছু প্রাণী (মানুষ) আছে যারা সারাটি জীবন অন্যকে নিজের প্রভাব বলয়ের মাঝে আবদ্ধ রেখে তাদের বানানো শৃঙ্খলা (ব্যক্তিস্বার্থ) পাঠ পড়াতে থাকে। দুর্নামকারীরা সাধারণত আড়ালপ্রিয়। সামনে ভাল মানুষ সেজে বসে থাকে। এ পাঠ অনুসরণ করলে নিসন্দেহে ভদ্র ও সুশৃঙ্খল চতুষ্পদী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়, পাওয়া যায় অঢেল সম্মান (নকল)।

অনুসরণ না করার পরিনতি তো অনুমান করা যায়। আগে মানুষ হতে হবে (সবাই তো প্রাণী)। তবেই শিরদাঁড়া সোজা করে জীবন উপভোগ সম্ভবপর।

লেখক : তানভীরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া