পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী গ্রহাণু

  • 09 Apr
  • 01:53 AM

হুমায়ন মাহমুদ ইলিয়াস, শিক্ষার্থী (ববি) 09 Apr, 20

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াতে করোনা ভাইরাস ও পঙ্গপালের পর সবচাইতে আলোচিত বিষয় হচ্ছে 29শে এপ্রিল হিমালয়ের চাইতে বড় গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পরার আশঙ্কা নিয়ে। আসন্ন 29 এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাবে একটি শক্তিশালী গ্রহাণু। নাসার পক্ষ থেকে এ গ্রহাণুটির নাম দেওয়া হয়েছে Asteroid 52768 বা 1998 OR2.এটি পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে।

নাসার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আগামী 29 এপ্রিল আমেরিকার সময় ভোর 4:56 মিঃ এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর 2:56 মিনিটে এ গ্রহাণুটি অতিক্রম করে যাবে। অতিক্রমের সময় পৃথিবীর থেকে এ গ্রহাণুর দূরত্ব হবে আনুমানিক 62 লক্ষ কিলোমিটারের মতো। যা পৃথিবীর থেকে চাঁদের দূরত্বের 16 গুণেরও বেশি। এই দূরত্ব হিসেবে শুনতে অনেক বেশি মনে হলেও মহাকাশে গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে 62 লক্ষ কিলোমিটার খুব বেশি দূরত্ব নয়।

আনুমানিক 1.8থেকে 4.1 কিলোমিটার ব্যাস বিশিষ্ট এ গ্রহাণুটি ঘণ্টায় 31হাজার 320 কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে অর্থাৎ গ্রহাণুটি প্রতি সেকেন্ড 8.7কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করছে।

কোনও কোনও বিজ্ঞানী মনে করছেন এর প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসতে পারে । একই সঙ্গে এ গ্রহাণুর প্রভাবে পৃথিবীর অনেক জায়গা সাময়িক সময়ের জন্য সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে অ্যাসিড বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।একই সঙ্গে সৃষ্ট অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবে পৃথিবীর এ সকল অঞ্চলে চাষাবাদের ক্ষেত্রেও একটি বিশাল বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

তবে সবচেয়ে আশঙ্কার ব্যাপার হলো বিভিন্ন কারণে একটি গ্রহাণু তার গতিপথের পরিবর্তন করতে পারে। যেমন: চলার পথে কোনও একটি নির্দিষ্ট গ্রহের কিংবা বৃহৎ উল্কাপিণ্ডের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্ৰভাবে একটি গ্রহাণু তার গতিপথ পরিবর্তিত করতে পারে।

আবার "ইয়ারকোভজি ইফেক্টের" কথাও আমরা অনেকে শুনেছি। অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে একটি গ্রহাণুর তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে গ্রহাণুটি ঘুরে যেতে পারে, এমনকি কক্ষপথেরও পরিবর্তন করতে পারে।
হয়তোবা সাময়িকভাবে মনে হচ্ছে যে 62 লক্ষ কিলোমিটার বিশাল একটি দূরত্ব কিন্তু যে কোনও সময়ের গতিপথের পরিবর্তন কিংবা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিশেষ করে পৃথিবীর পৃষ্ঠের ওপর একটি প্রভাব ফেলতে পারে।

আজকের থেকে প্রায় 6.5 কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীর পৃষ্ঠে এ রকম একটি শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী থেকে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটেছিল। আসলে শুধু ডাইনোসরই নয়, ধারণা করা হয় এ গ্রহাণুর প্রভাবে সে সময় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা প্রাণীকুলের শতকরা 70 ভাগ প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

"ডাইনোসর কিলার অ্যাস্টোরয়েড" খ্যাত এ গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীর যত ক্ষতি করেছিলো আসন্ন এই গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পরলে ঠিক ততটা ক্ষতি না হলেও যা হবে তা ধ্বংসের নামান্তর

যদিও Asteroid 52768 সরাসরি পৃথিবীর বুকে আঘাত হানছে না এবং পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে এর নিকটতম দূরত্ব হবে প্রায় চার লক্ষ মাইলের মতো। তবুও এর বিশাল আকৃতির জন্য এবং একই সঙ্গে এর উচ্চ গতিবেগ ও বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতির কারণে কারণে কিছুটা হলেও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে আমাদের সকলের জন্য।

তবে নাসা 1998 OR2 গ্রহাণুটিকে Potentially hazardous বা সম্ভাব্য বিপদজনক আখ্যা দিয়ে বলেছে দূর ভবিষ্যতে এই গ্রহাণুটি তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে আবারও পৃথিবীর খুবই কাছে আসতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে পৃথিবীর সাথে এর সংঘর্ষও ঘটতে পারে!!