স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

  • 06 Dec
  • 03:56 PM

মো: শাহারিয়ার, জবি প্রতিনিধি 06 Dec, 20

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্নাতক শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘদিন ধরে করোনার কবলে পড়ে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় তবে চলছে অনাইনে ক্লাস।অনলাইনে ক্লাস হলেও পরীক্ষা হচ্ছে না। এতে ভোগান্তি পড়েছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ পর্বের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ ও ১১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ভোগান্তি পোহাচ্ছে। অনেকে এই পরীক্ষার বাকী থাকার কারণে পার্মানেন্ট কোন জবেও ঢুকতে পারছেন না। আবার স্নাতক পরীক্ষা না সম্পন্ন হওয়ার কারনে বিভিন্ন পরীক্ষায় আবেদনও করতে পারছেন না। আবেদন করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেন। স্নাতক শেষ সেমিষ্টারের পরীক্ষা না হওয়ায় তারা কোন চাকুরীর পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারছেন না। এতে করে শিক্ষার্থীরা চাকুরীর পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) পরীক্ষা না হওয়া বিভাগসমূহের শ্রেণী প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈঠক করেন। এসময় তারা প্রশাসন থেকে কোনো বক্তব্য না আসলে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে থাকা একাধিক শ্রেণীপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী। সোমবার থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যেতে পারেন বলে জানা তারা।

এবিষয়ে পরিসংখ্যান ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন আরিফ বলেন, পরীক্ষার বিষয়ে যদি প্রশাসন স্পষ্ট কিছু না বলে আমরা আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে ১১ ব্যাচ গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীন বলেন, ‘করোনার কারণে চলতি বছরের ১৮ মার্চ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে কিছু বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা আটকে যায়। এমতাবস্থায় দীর্ঘ সেশন জটে পড়তে হয় আমাদের। সম্প্রতি বিসিএসসহ বেশকিছু সরকারি, বেসরকারি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও আমরা তাতে আবেদন করতে পারছি না। এতে করে আমাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই।অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করবো।"

এ বিষয়ে পরীক্ষা না হওয়া গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, পরীক্ষা নেবার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং কতৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য ১৯ তারিখ পর্যন্ত যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় সরকারিভাবে বন্ধ এমত অবস্থায় কিছুই করা সম্ভব না।

এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয় যখন সরকারি ভাবে বন্ধ আছে এ অবস্থায় আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছুই নেই। পরিস্থিতি বুঝে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে ৭০-৮০ জন করে ধরে মোট ৩৯ ডিপার্টমেন্টের প্রত্যেকের দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেওয়ার মতো সুযোগ আমাদের জগন্নাথের নাই।তাছাড়া ১৯ তারিখ পর্যন্ত যেহেতু সরকারি ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে তারপর সরকার যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই হবে।