পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে

  • 05 June
  • 07:14 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 05 June, 21

মানুষের জীবনধারণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সেগুলো পরিবেশ থেকেই সংগ্রহ করা হয় । মানুষকে তার নিজের ও তার আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করার তাগিদেই প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করা প্রয়োজন। তবে
পরিবেশ বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে ।সমস্ত প্রাণী জগৎ বিভিন্ন মারন রোগের শিকার হচ্ছে। আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ের মানুষ তথাকথিত উন্নয়নের উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে বন ধ্বংস করতে শুরু করে। শিল্প বিপ্লবের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে প্রকোপ ভাবে, বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সমুদ্রের জলে মিশছে, অন্যদিকে নির্গত রাসায়নিক গ্যাস বাতাসে। ফলে পরিবেশের জীব-বৈচিত্র ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। যেখানে পরিবেশে রক্ষায় জীববৈচিত্র্য ভূমিকা অপরিসীম।

চলতি বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের ভাবনা মূলে জীববৈচিত্র্য এবং আয়োজক দেশ কলম্বিয়া । আয়োজক দেশের তরফে জানানো হয়েছে যে প্রায় দশ লক্ষ জীব-বৈচিত্র্য বিলুপ্তের পথে । বর্তমান সময় জীববৈচিত্র্য রক্ষার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় । আর গোটা বিশ্বের দশ শতাংশ জীব বৈচিত্র্য রয়েছে কলম্বিয়ায় । অ্যামাজন রেনফরেস্টের একটি বড় অংশ কলম্বিয়াতে । পৃথিবীর নানান ধরনের পাখি ও অর্কিডের বৈচিত্র্যের নিরিখে প্রথম এই দেশ । পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীব বৈচিত্রের ভূমিকা অপরিসীম । পৃথিবীর খাদ্য , জল ও খনিজ দ্রব্যাদির যোগান ঠিক রাখে জীব -বৈচিত্র্য । পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন , দূষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা , এবং পৌষ্টিক উপাদানগুলো সঠিক ভাবে পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য করে তোলায় গোটা বাস্তুতন্ত্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা ভীষণ জড়ুড়ি।

। পরিবেশ রক্ষা করাই বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল লক্ষ্য। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে স্টোকহোম সম্মেলনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৪সালে একমাত্র পৃথিবী ( only one earth) এই থিম নিয়ে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়।

আমাদের পরিবেশ রক্ষায় প্রধান করণীয়তা গাছ লাগানো, গাছ লাগিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের প্রকোপ কমানো সম্ভব । 'গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান '- মূল মন্ত্রে উজ্জীবিত হয় যে একটি গাছ কাটলে দুইটি গাছ লাগান । সঙ্গত কারণে এইসব হিসাব রাখার কেউ নাই । আমাদের দেশে গাছ লাগানো এবং গাছ কাটতে কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না । বর্তমানে পরিবেশ রক্ষায় সরকার মাটির উপরিভাগ কেটে যত্রতত্র পুকুর খনন বন্ধ করেছে। পুকুর খনন সহ জলাশয় ভরাট করতে হলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন হয় । গাছ কাটার ক্ষেত্রেও এমন কোনো বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা গেলে অকারণে নিধনের হাত থেকে বেঁচে যেত বহুবৃক্ষ । পরিবেশের টেকসই উন্নতি হতো । তথাকথিত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নির্বিচারে বন ধ্বংস করা বন্ধ হোক । শুধু রোপনের নয় নিধনের ও হিসাব রাখি ।

এ বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম ' বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা' । পরিবেশকে নতুন ভাবে সৃষ্টি করা, গাছ লাগানো , পরিবেশের সবুজের সমাহার সৃষ্টি করা যেনো আগামী প্রজন্ম সুস্থ স্বাভাবিকভাবে পরিবেশে বসবাস করতে পারে।


জান্নাতুল মাওয়া শশী
১৫ তম আবর্তন , সমাজকর্ম বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়