পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কী, কেন এবং এর গুরুত্ব

  • 27 July
  • 11:00 PM

প্রতীমা দাশ, পবিপ্রবি 27 July, 21

পরিবেশ বলতে সাধারণত আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বোঝায়। ইংরেজিতে বলা হয় Environment. বৈজ্ঞানিকভাবে, জীব ও জড়ের সম্মিলিত বাস্তুসংস্থানই হচ্ছে পরিবেশ।
জন্মগতভাবেই প্রতিটি জীব একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বেড়ে ওঠে। কোনো প্রাণী স্থলজ পরিবেশে আবার কোনো প্রাণী জলজ পরিবেশে জীবনধারণ করে।

বস্তুগত, অবস্তুগত এবং সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে পরিবেশ গঠিত। এসকল উপাদানগুলো বিজ্ঞানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশ বিজ্ঞান বলতে বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশের জীব ও জড় উপাদানের মধ্যে সম্পর্ক, উপাদানগুলোর তারতম্যের কারণে পরিবেশে সৃষ্ট সমস্যা এবং সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে বোঝায়।

পরিবেশের প্রতিটি উপাদান পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। প্রাকৃতিকভাবে কিংবা মানবসৃষ্ট কারণে এসকল উপাদানের অস্বাভাবিক তারতম্যের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং আমরা দুর্যোগের সম্মুখীন হই। যেমনঃ প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে গাছ কাটার দরুন পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ছি আমরা।
তাছাড়া, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্নিঝড়, খরা, লবনাক্ততা,নদী ভাঙ্গন, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণ যেমনঃ বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদির ফলে প্রাণ হারাচ্ছে শত শত মানুষ, জীবনমান পরিবর্তিত হচ্ছে, মানুষ হয়ে পড়ছে খাদ্যহীন, আশ্রয়হীন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় কৌশলগত পদক্ষেপই হচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ্য না হলেও যথাযথ প্রস্তুতি, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সচেতনতাই পারে দুর্যোগে মানুষের এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে। এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগের প্রতিও কঠোর দৃষ্টিপাত রাখতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অনুষদে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো হচ্ছে। একজন দক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে তত্ত্বীয়মূলক এবং গবেষণামূলক পরীক্ষণ করছে শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ছাত্রী সানজিদা হোসেন সেতু বলেন, "বাংলাদেশের মত দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত গ্রাজুয়েটদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই অনুষদের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে একজন দক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি ও মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা রাখি।"

তাছাড়া এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে জনগনকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রস্তুতিমূলক সচেতনতা, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তীকালীন কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।

সুতরাং, আমাদের উচিৎ পরিবেশ সংরক্ষণে আরো বেশি সচেতন হওয়া এবং দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখা।