পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানবজীবন

  • 27 July
  • 06:26 PM

সানজিদা সেতু, পবিপ্রবি 27 July, 21

ছোটবেলা থেকেই আমরা জানি, আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা সব মিলিয়েই আমাদের পরিবেশ। আরো বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে পরিবেশ হলো এমন একটি জিনিস যা আমাদের পারিপাশ্বিকতা তৈরি করে এবং পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আমাদেরকে ক্ষমতা প্রদান করে।

আর প্রকৃতি বলতে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট নয় এমন দৃশ্য,জীবন ও প্রাণকে বোঝায়।অর্থাৎ প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিবিড়ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মনােবিজ্ঞানী বােরিং, লংফিল্ড এবং ওয়েল্ড -এর মতে, জিন ব্যতীত ব্যক্তির ওপর যা কিছু প্রভাব দেখা যায়, তাই হল পরিবেশ।কাজেই মানবজীবনে পরিবেশ ও প্রকৃতির গুরুত্ব যে বর্ণনাতীত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
গতানুগতিকভাবে পরিবেশকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে:প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ। তবে আধুনিক ধারণা অনুযায়ী মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ মানবজীবনের একটি অন্যতম গুরুত্ববহ অংশ।
আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।প্রাকৃতিক পরিবেশের মূল উপাদান :মাটি,পানি এবং বায়ু যা আমাদের বসবাস করার স্থান, বায়ু, খাদ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা সরবরাহ করে থাকে।এছাড়াও আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সামাজিক রীতিনীতি,সংস্কৃতি, ঐতিহ্য,কৃষ্টি ইত্যাদি সামাজিক পরিবেশ গঠন করে। সুস্থ এবং সাবলীল সামাজিক পরিবেশ শিশুদের সামাজিকীকরণে সহায়তা করে।
পরিবেশের প্রতিটা উপাদানের সুসমন্বিত রূপই হলো সুস্থ পরিবেশ। এই সুসমন্বিত রূপের ব্যত্যয়ই পরিবেশের দূষণ ঘটায় এবং পরিবেশের স্বাভাবিক মাত্রার অবক্ষয় দেখা দেয়। সভ্যতার অগ্রগতি,শিল্প বিপ্লব ও নগরায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার একদিকে যেমন উন্নয়ন ঘটেছে অন্যদিকে পরিবেশ ও প্রকৃতি দিনদিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, এ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মাটি,পানি,বায়ুর মত বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ক্রমবর্ধমান ক্ষয় এবং নিঃশেষের মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়সাধন,বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস ও বিলুপ্তকরণ হচ্ছে যা প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অপচর্চা, অন্যায় ও নানা অপসংস্কৃতির দৌরাত্ম্যে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে যা সমাজের স্বাভাবিক চলন রীতি ও বিকাশে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

অতিমাত্রার দূষণ,প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার এবং নানাবিধ বৈরিতা পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলার আগেই সর্বসাধারণের সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতি,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভৌগোলিক কারণে দুর্যোগপূর্ণ বাংলাদেশের পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বৃক্ষ নিধনরোধের বিকল্প নেই।এছাড়াও যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা;প্লাস্টিক,রাসায়নিক সার ও কীটনাশকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা;পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার;অপ্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রার শব্দ পরিহার করার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মানুষ অভাবনীয় অবদান রাখতে পারে।

সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গঠনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অন্যায়,অনিয়মহীন সমাজ গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা প্রয়োজন। নতুবা অদূর ভবিষ্যতে সমাজব্যবস্থায় অশুভ পরিবর্তন ঘটতে চলছে।
প্রকৃতি ও পরিবেশের মধ্যে মানুষ বসবাস করে এবং সেখান থেকেই সে তার প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সংগ্রহ করে।নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ মানবজীবনে নৈতিক দ্বায়িত্ব হিসেবে আর্বিভূত হচ্ছে।
পরিবেশ ও প্রকৃতি বাঁচলেই, বাঁচবে মানুষ।