‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে সচেতন হওয়া দরকার’

  • 05 June
  • 04:37 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 05 June, 21

আজ ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭৪ সাল থেকে এইদিনে পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ই জুন ঘোষণা করে জাতিসংঘ ১৯৭৩ সালে। পরিবেশ নিয়ে প্রথম চিন্তাভাবনা করে সুইডেন সরকার। তারা পরিবেশ দূষণ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তাই তারা জাতিসংঘের কাছে বার্তা পাঠায়। ফলে জাতিসংঘ বিষয়টা নিয়ে ভাবে এবং সমাধান করার উপায় খোঁজে। পরে জাতিসংঘের সদস্য দেশের নিয়ে একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় সুইডেনে। এর নাম দেওয়া হয় "জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স " যা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের জুন মাসে। পরবর্তী বছর ৫ই জুন থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম ছিল " Only one earth". পরিবেশ সম্পর্কে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেন, "The enviroment is everything that isn't me."প্রত্যেক প্রাণির বেঁচে থাকার জন্য তারা স্ব স্ব পরিবেশে অবস্থান করে। আর তাদের জন্য প্রয়োজন হয় পরিবেশের আলো, বাতাস, অক্সিজেন, অভিযোজন ক্ষমতা ইত্যাদি। এর কোনো একটি দূষিত হলে তাদের বেঁচে থাকার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে জীবজগতে। বিগত দশকের চেয়ে এখন পাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে গেছে। প্লাস্টিক এমন পদার্থ যা ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ। আমাদের শরীর প্লাস্টিক থেকে রাসায়নিক শোষণ করে, যা আমাদের জন্য খুব ক্ষতিকারক। প্লাস্টিক মানুষের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেলে তা নদীনালা, নর্দমায় ফেলে। কিন্তু এটি প্রচুর পরিমাণে মাটি দূষণ করে। আর এমনকি ২০০ বছর সময় লাগে প্লাস্টিক পচতে। আর মাটিতে জমে থাকা এই প্লাস্টিক গাছপালার বৃদ্ধি ব্যাহত করে। মানুষ নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করছে। ফলে বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ দূষণের জন্য মুখ্য ভূমিকা রাখে গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া। কিন্তু বায়ুমন্ডলে এই গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী বৃক্ষ নিধন। বৃক্ষ নানাভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ও কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য শতকরা ২৫ ভাগ বৃক্ষের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আছে শতকরা ১৭ ভাগ। তবে আশানুরূপ বৃক্ষ আছে ৫টি জেলায় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি আর বরগুনাতে। বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে সুন্দরবন থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃক্ষ আছে। তাছাড়া বৃক্ষ আমাদের উপকার করে বাতাস, কাঠ, ফল, ফুল ছায়া দিয়ে। আর আসবাবপত্র তৈরির উপকরণ আসে বৃক্ষ থেকে। বৃক্ষ ভূমি ক্ষয়রোধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়রোধ, জলবায়ু রক্ষা করে। কিন্তু পরিবেশ আজ হুমকির মুখে। বাতাসে ধোঁয়া, বালি, তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশে বায়ু দূষণ করছে। এছাড়া যানবাহন, ইটের ভাটা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ করছে। যার কারণে হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগ হয়। গ্রামীণ জনপদের চেয়ে শহুরে জনপদে পানি দূষণ বেশি হচ্ছে।

শহরের কলকারখানা থেকে নিগত বর্জ পানির সাথে মিশে পানি দূষণ করছে। এসব পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি দূষিত হওয়ার ফলে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সালের ১ মার্চ থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। কিন্তু আইনের সঠিক ব্যবহার না থাকায় প্রতিনিয়ত পলিথিনের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। বর্তমানে কৃষি জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে রাসায়নিক সার, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু তার পূর্বে ব্যবহার করা হতো কৃত্রিম জৈব সার। জৈব সার ছিল পুষ্টিগুন সম্পন্ন। কিন্তু কিছু অসাধু লোক দ্রুত ফলন পাওয়ার জন্য রাসায়নিক সারের ব্যবহার করেছে। ফলে কৃষি জমির উপকারী কীটপতঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে মানুষের রোগব্যাধি বেড়েই চলেছে। আর এভাবে পরিবেশ দূষণ হতে থাকলে পৃথিবীতে জীবজগতের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের সকলের উচিত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে সচেতন হওয়া। মানুষের প্রয়োজনে একটি গাছ কাটলে আরো বেশি করে বৃক্ষ রোপন করা। তাহলে রক্ষা পাবে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, চির হরিৎ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।


লেখক: মোঃ আবদুল্লাহ আলমামুন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা