নোবিপ্রবি দিবস হিসেবে ২২ জুনকে পুনর্বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম

  • 22 June
  • 01:12 PM

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 22 June, 20

বাংলাদেশের ২৭ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালের ২২ জুন।কিন্ত "নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন -২০০১" পাশ হয় ২০০১ সালের সালের ১৫ জুলাই।প্রতিষ্ঠাকালীন তারিখ হিসেবে ২২ জুনকে নোবিপ্রবি দিবস হিসেবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পালন করার হলেও ২০১৬ সাল থেকে এটি পরিবর্তন করা হয় এবং নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার আইনের পাশের দিন ১৫ জুলাইকে নোবিপ্রবি দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।যার ফলে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আসলে এ নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।প্রতি বছর এই দিবস আসলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ সচেতন মহলে রয়েছে ছাপা ক্ষোভ দেখা যায়। শিক্ষার্থী শিক্ষক সহ সবাই চায়, সংকীর্ণ রাজনৈতিক মনোভাব পরিহার হয়ে মুক্তি পাক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে ২২ জুনকে পুনর্বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস প্রত্যক্ষ করলে দেখা যায় তাদের সবাই শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর দিনটিকেই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করে। একই কারণে ২২ জুনকেই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পালন করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।একজন নোবিপ্রবিয়ান হিসেবে বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার যে, বিভিন্ন অন্যায় এবং অসঙ্গতিতে আমরা কথা বললেও নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে তার কোন প্রতিবাদ আমরা করছি না। যেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিনে পালন করা হয় সেখানে আমরা একটি মহলের ষড়যন্ত্রের কুটকৌশলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা আমাদের দেশ স্বাধীনের পরেও অনেকবার দেখা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে ও ভবিষ্যৎ সোনার বাংলা বিনির্মানের কান্ডারি হিসেবে যে কোন অপশিক্ষাকে আমাদের রুখে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিবেকবান ছাত্র হিসেবে আমাদের এই গর্বিত ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনতে হবে।"

গণসাক্ষরের অন্যতম সমন্বয়ক বিশ্ববিদ্যালয় বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম সৌরভ বলেন, ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে আমরা অসম্মান করছি । ভুলে যাচ্ছি কবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছিল বা এর গুরুত্ব কতটুকু। নোবিপ্রবির একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে যেই বিকৃত আকাঙ্ক্ষায় ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য এই হীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল সেই পদক্ষেপের বিরোধিতা করি এবং ২২ জুনকে নোবিপ্রবি দিবস হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জানাই। এই দাবিতে একাত্মতা পোষণের জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করার যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনকে সম্মান জানিয়ে প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিবে বলে প্রত্যাশা করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই সদস্য এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক সালাউদ্দিন পাঠান বলেন, ২০১১ সাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রাণ হিসেবে এসে ২২ জুনকেই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পেয়েছি। ইতিহাস থেকে জেনেছি এই দিনেই আমাদের প্রথম আবর্তনের অগ্রজরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এই আবেগকে সবারই সম্মান জানানো উচিত। আশাকরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনা করবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানকালীন শিক্ষক বর্তমানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর দিনকেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় জন্মদিন হিসেবে পালন করে থাকে। তবে নোবিপ্রবিতে গতানুগতিক এই প্রথার বেত্যয় ঘটেছে। যেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পা রেখে ক্যাম্পাসকে মুখরিত করেছে, সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হওয়া উচিৎ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেন উদ্বোধনের দিনকেই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এই বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিদার-উল-আলম বলেন, আগের বছরে পালিত তারিখে এবারও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হবে। তবে যেহেতু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর দিনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। আমরাও নির্দিষ্ট সভায় এটা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।"