অবিসংবাদিত নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা

  • 18 July
  • 12:38 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 18 July, 21

পৃথিবীতে যুগে যুগে কিছু মানুষ ছিলেন যারা বিপ্লবের এবং তাদের নীতিবোধে দৃঢ় থেকে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তথা একশ্রেণীর শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য অবদান রেখে গেছেন। তাদেরই মধ্যে একজন মহান ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলা।

তার জন্ম অন্ধকার দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্র্যানস্কি প্রদেশে এক উপজাতীয় পরিবারে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই। যেখানে ছিল নানা বৈষম্য৷ কৈশোরে গ্রামের উপজাতীয় বৃদ্ধদের মুখ থেকে বিভিন্ন কাহিনী শুনে তার রাজনৈতিক চেতনার প্রথম উন্মেষ ঘটে। এই অবিসংবাদিত নেতা স্বপ্ন দেখতেন সমতার। যা আজকে বিশ্বে অনেকটায় সফল। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যার নীতিবোধ ছিল সূর্যের আলোর মত প্রখর।

দক্ষিণ আফ্রিকায় তখন ছিল সাদা কালোর ভেদাভেদ। শুধুমাত্র চামড়া কালো বলে তাদের বঞ্চিত করা হতো সকল প্রকার অধিকার থেকে। হেয় করা হতো পদে পদে৷ ওনি সেই বর্ণবৈষম্যকে দূরীকরণের জন্য সংগ্রাম করেছেন আমৃত্যু পর্যন্ত। সেই বর্ণবৈষম্যের আন্দোলনের কারণে তাকে বরণ করতে হয়েছে কারাবরণ। জীবনের দীর্ঘ ২৭ বছর তিনি কাটিয়েছেন জেলখানায়। বর্ণবাদী সরকার ম্যান্ডেলাকে ছয়বার মুক্তির দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হন নি। বরং তিনি বলেছিলেন, "জনগণের সংগঠন (এএনসি) যদি নিষিদ্ধ থাকে, তাহলে আমাকে কোন ধরনের মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে"।

তিনি তার লক্ষ্যে অটুট ছিলেন সারাজীবন। নৈতিকতা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নেলসন ম্যান্ডেলা। বর্ণবাদী সরকার এএনসিকে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এএনসিকে সন্ত্রাসী তকমা দেয়। তবুও তিনি পিছু পা হন নি বরং অধিকারের লড়াইয়ে লড়াই করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। অবশেষে ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্য ম্যান্ডেলা ও তার সংগঠনকে সন্ত্রাসীর তালিকা থেকে বাদ দেয়। কারাগারে ম্যান্ডেলাকে মাত্র দুই মিটার চওড়া ও আড়াই মিটার লম্বা একটি প্রকোষ্ঠে রাখা হয়। ঘুমানোর ব্যবস্থা ছিল মেঝেতে। আর শুধু ছিল মলমূত্র ত্যাগের জন্য একটি বালতি। এভাবেই দীর্ঘ ২৭ বছর সূর্যের আলো দেখতে পারেন নি।

তিনি বলে গেছেন সেই সব ভূমিহীন চাষীদের কথা, যারা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি তাদের জন্য লড়াই করেছেন যেসব শিশুরা জন্ম নেয়, তথচ তাদের জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ হয় নি। তিনি বলে গেছেন আকাশস্পর্শী মূল্যবৃদ্ধির কথা, কদর্য বস্তির জীবন যাপনের কথা। বলেছেন, সমবেত কন্ঠে স্বাধীনতার কথা। তার কিছু কথা আমাদের জীবনে চলার পথে পাথেয়। তার মধ্যে একটি "যদি তোমার মত ন্যায্য হয়, তাতেই অটল থাকো। সুপারি গাছের মতো বাতাস যেদিকে দোলে সেদিকে দুলবে না, মড়াৎ করে কোমর ভেঙে যাবে"। তিনি আরেকটি সুন্দর কথা বলেছেন, "যারা বলে তুমি পারবে না, তোমার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে তাদের ভুল প্রমাণ করা। এর জন্য তোমার জেদ থাকলেই চলবে আর কিছু লাগবে না"।

তার জীবনাদর্শ আমাদের নতুন করে কিছু করার সাহস জোগায়। তার জীবনাদর্শ আমাদের আলোর পথের দিশা দেয়। ১৯৬১ সালে কালো মানুষের অবিসংবাদিত নেতা ম্যান্ডেলার দৃপ্ত ঘোষণা শোনা যায় -
"মুক্তির লক্ষ্যে জন্য আমি আমৃত্যু সংগ্রাম চালিয়ে যাব। সংগ্রামই আমার জীবন"। আজ এই অবিসংবাদিত নেতার জন্মদিনে তার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।


লেখক: জাকিয়া বেগম
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা