নিরাপত্তাহীনতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • 23 July
  • 12:28 PM

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 23 July, 20

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মী থাকলেও পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি না থাকায় ক্যাম্পাস বন্ধে ঘটেছে চুরি, ভাঙচুরের মতো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলে।

হল থেকে টেলিভিশন চুরি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরি, নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে ইট, রড,বালু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি করোনার বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ভবনের দ্বিতীয় তলায় নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও এই ভবন থেকে একজন শিক্ষকের মোবাইল,নগদ টাকাসহ ব্যাগ চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় দুর্বৃত্তদের বাঁধা দেওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীদের হামলার স্বীকারের মতো ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ফলে হল সমূহে প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে যাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন চরম শঙ্কায়।

সিসি ক্যামেরা না থাকায় এই ঘটনাগুলোতে অপরাধী শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কিছু ঘটনায় নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে এসব ঘটনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার কথা জানলেও পর্যাপ্ত প্রমান না থাকায় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নি। এছাড়া দুই একজন অপরাধী শনাক্ত হওয়ার পর প্রশাসনের সহযোগিতায় পার পেয়ে এ ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিচারহীন ব্যবস্থাই এমন কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তির জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, চুরি,ভাঙচুর দুর্বৃত্তায়ন ঠেকাতে ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ও লাইব্রেরি ভবন সহ প্রত্যেকটি একাডেমিক ভবন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ স্থানই সিসি ক্যামেরার আওতামুক্ত এবং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ধ্বংস যজ্ঞ কর্ম কেউ পরিচালনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতটুকু ব্যবস্থা নিতে পারবে এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়ার্কার্স বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিসি ক্যামেরার আওতামুক্ত রয়েছে উপাচার্য দপ্তর ব্যতীত সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ভবন। এই ভবনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং অর্থ বিভাগ সহ প্রশাসনিক সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় সমূহ থাকলেও এই ভবনকে এখনো পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি। এছাড়া প্রক্টর অফিস ও ছাত্র,পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের দপ্তর সহ গুরুত্বপূর্ণ আরো কয়েকটি দপ্তর থাকা সম্পূর্ণ অডিটোরিয়াম ভবন এখনো সিসি ক্যামেরার আওতামুক্ত রয়েছে এবং দুইটি একাডেমিক ভবন সহ বাকি হল সমূহও রয়েছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাহিরে।

সূত্রে আরো জানায়, উপাচার্যের কার্যালয়ের সাথে সংযুক্ত করে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটক পর্যন্ত, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সম্পূর্ণ এবং সাবেক স্পীকার আব্দুল মালেক উকিল হল এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। লাইব্রেরী ভবনের শুধুমাত্র লাইব্রেরী কক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজস্ব অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে। এছাড়া দু' একটি বিভাগের শুধুমাত্র অফিস কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে বিভাগ কর্তৃক এই সব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানায় বিভাগীয় সূত্র।তবে নতুন করে অন্যান্য জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এখনো এমন কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানায় প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়ার্কার্স দপ্তর।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কিছুটা কমিয়ে আনতে পেরেছি। এগুলো সাধারণত বন্ধের সময় ঘটে থাকলেও করোনার আগের ছুটিতে এমন কিছু ঘটে নি, সেসময়ে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পেরেছি।

তিনি আরো বলেন, এখন কিন্তু সাধারণ ছুটি নয়, করোনা মোকাবেলায় এই ছুটি হওয়াতে অন্য সময়ের ছুটি থেকে এটা একটু ভিন্ন। ভাইরাস সংক্রমণের ভীতি থাকায় নিরাপত্তা কর্মীরাও সবদিকে ঠিক মত দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। সেজন্য দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। আমরা অতিদ্রুত সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করবো।