নিম্নমুখী মানে উচ্চমূল্যের খাবার

  • 30 Sept
  • 10:02 PM

আতিকুর রহমান, বাকৃবি প্রতিনিধি 30 Sept, 21

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সব খাবার হোটেলগুলোতে খাবারের দাম বেড়েছে। উচ্চমূল্যের সাথে সাথে অধিকাংশ হোটেলের খাবারের স্বাদ ও মান দুটোই কমেছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ভাতে ও ডালে ক্যারিজাতীয় পোকা, একই তেল বারবার ব্যবহার করা, একই খাবার একদিনের বেশি সময় ধরে পরিবেশন করা, সবজি ও ভর্তায় দুর্গন্ধের সাথে টক স্বাদের উপস্থিতি সহ নানা অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি খাবারের উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা কুলিয়ে উঠতে পারছে না। কিন্তু অল্প কিছু হোটেলে খাবারের মূল্য বেশি হলেও সাধারণ মানের কথা জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তবে হোটেল মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণেই খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া আগের থেকে প্রায় দ্বিগুন অংকে পারিশ্রমিক দিয়ে কর্মচারী রাখতে হচ্ছে। খাদ্যদ্রব্যের সাথে জ্বালনী গ্যাস ও কাঠকয়লার চড়া দাম বেড়েছে। তবে খাবারের নিম্নমুখী মান ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা অস্বীকার করে মালিকরা বলেছেন, অত্যধিক গরমের কারণে কিছু খাবারে একটু টকস্বাদ তৈরি হয়। তাছাড়া খাবারের মান আগের মতই আছে।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী সাকিব রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই চলে এসেছে পরীক্ষার রুটিন। কিন্তু এমতাবস্থায়ও হোটেলের খাবারের মানের কারণে আমাদের রান্না করে খেতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না। হলের প্রায় প্রতিটি রুমেই শিক্ষার্থীরা রান্না করে খাচ্ছে। যাদের রান্নার ব্যবস্থা নেই তাদের বাধ্য হয়েই হোটেলে খেতে হচ্ছে। প্রশাসনের নিকট মানসম্মত খাবার ব্যবস্থা করা ও একটি নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা তৈরি করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ. কে. এম. জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোটেলের খাবারের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমারা অতিশীঘ্রই হোটেলগুলো পরিদর্শন করবো এবং খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করবো। তাদের একটি খাবারের মূল্যতালিকাও দেওয়া হবে। আবার সবগুলো হলে পরিবেশ ঠিক রেখে ডায়নিং চালু করারও নির্দেশ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাকৃবি শাখা ছাত্রফ্রন্টের পক্ষ থেকে করোনাকালীন সময়ের কথা বিবেচনা করে খাবারের দাম কমানোর জন্য প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়।