নিজস্ব উদ্যোগে পটুয়াখালীতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে চলছেন তারা

  • 23 July
  • 02:37 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি 23 July, 21

করোনায় চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল, স্বজনদের আহাজারি। প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজগুলোতে চোখ রাখলেই দেখা যায় করোনায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনের সংক্রমণের মাত্রা ৩০% ছুঁই ছুঁই। তবুও এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের কথা উপেক্ষা করে করোনা আক্রান্ত অসহায় মানুষদেরকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ দিচ্ছে কতিপয় সংগঠন এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।এমনটিই দেখা যায় পটুয়াখালী জেলায়।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কালীন সময় থেকেই পটুয়াখালীতে নিরলসভাবে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করে আসছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী ইউনিট। জরুরি পরিস্থিতিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ২৪ ঘন্টা বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ দিচ্ছে তারা। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী ইউনিটের উপ প্রধান তানজিলা জাহান মৌ জানান, পটুয়াখালী ইউনিটে বর্তমানে পাঁচটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং দুটি কনসেন্ট্রেটর রয়েছে। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী আরো বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভব। অক্সিজেন সেবা পেতে হটলাইন নাম্বার - ০১৮১৮ ৮৩০০৪৮। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী ইউনিটের যুবপ্রধান জনাব আরিফ আলামিন বলেন, " দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সর্বদা প্রস্তুত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পটুয়াখালী ইউনিট। "

এছাড়াও পটুয়াখালী জেলার কৃতি সন্তান, যিনি ইতোমধ্যে যমুনা টেলিভিশন কর্তৃক মানবতার ফেরিওয়ালা নামে অভিহিত, পটুয়াখালী ফোকাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মেহেদী হাসান শিবলী সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে দুইটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রায় চল্লিশেরও অধিক করোনা আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেকোনো সময়ে জরুরি মুহূর্তে নিজেই অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন রোগীদের বাড়িতে। এছাড়া মেহনতি মানুষদের ইফতার বিতরন, অসহায় ব্যক্তিদের খাবারের আয়োজন করা, চিকিৎসারত মানুষদের আর্থিক সাহায্য করা ইত্যাদি নিজের অর্থায়নে করে যাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "দোয়া করবেন, আমি যেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসহায় মানুষদের জন্য কাজ করে যেতে পারি।"

এসকল সংগঠন কিংবা ব্যক্তিদের কাজ কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, অনুপ্রেরণামূলক। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দূর হয়ে যাক, বেঁচে থাক মানবিকতা।