নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭২তম জয়ন্তী

  • 18 Aug
  • 09:21 AM

প্রতিমা 18 Aug, 21

বাঙালি জাতি সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এক জাতি। যুগ যুগ ধরে অসংখ্য মহৎ ব্যক্তিত্বের হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে আমাদের সভ্যতা, আমাদের সংস্কৃতি। তেমনই স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, বাংলা নাটকের গৌড়জন, "নাট্যাচার্য" হিসেবে অধিক সমাদৃত, বাংলা নাটকের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম " সেলিম আল দীন"। আজ ১৮ আগস্ট, তার ৭২ তম জন্মবার্ষিকী।

সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম "মঈনুদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মফিজউদ্দীন আহমেদ এবং মাতা-ফিরোজা খাতুনের তৃতীয় সন্তান তিনি। পিতার চাকরিসূত্রে ফেনী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ দেশের অনেক স্থানে তার শৈশব কেটেছে।

এই মহান নাট্যব্যক্তিত্ব ১৯৬৪ সালে মঙ্গলকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে ফেনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। দ্বিতীয় শিক্ষাবর্ষে থাকাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে টাঙ্গাইলের করোটিয়ার সাদত কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি এবং ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যযুগের বাংলা নাট্যরীতি নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন যুক্ত হয়েছিলেন ঢাকা থিয়েটারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। লেখক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবীব সম্পাদিত দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার মাধ্যমে।

সেলিম আল দীন ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। উক্ত বছরেই বেগমজাদী মেহেরুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল দীনের হাত ধরেই। তার সম্পাদনায় ‘থিয়েটার স্ট্যাডিজ’ নামে পত্রিকা প্রকাশিত হতো নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে। এরপর ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য নির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফকে সাথী করে গড়ে তোলেন "বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার"।

জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সংবাদ কার্টুন, কীত্তনখোলা, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, মুনতাসীর ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, বনপাংশুলের মত অসংখ্য নাট্যরচনা করেছেন তিনি। " স্বপ্নরমণীগণ" এবং "ঊষা উৎসব" তার রচিত উল্লেখযোগ্য গীতিনৃত্যনাট্য। প্রায় পঞ্চাশের অধিক গানের কথা এবং সুর করেছেন তিনি। তার রচিত গানে বিশিষ্ট গায়িকা ফাহমিদা নবীর কন্ঠে "আকাশ ও সমুদ্র অপার" শিরোনামে সিডি প্রকাশিত হয়েছে। এসকল অনবদ্য সৃষ্টির জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন নাট্যকার, মুনীর চৌধুরী সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি তার অসাধারণ সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন বাঙালির সংস্কৃতিতে, বাঙালির মননে।