নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’র উদ্ভট বিবৃতি: সারাদেশে সমালোচনার ঝড়

  • 25 July
  • 11:10 AM

বেরোবি প্রতিনিধি 25 July, 20

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কর্মরত সাংবাদিকদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্ভট বিবৃতি প্রদান করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুটিকয়েক শিক্ষকদের সংগঠন ‘নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’। সম্প্রতি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ‘দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন প্রসঙ্গে’ একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত এই সংগঠন। এই বিজ্ঞপ্তির বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হচ্ছে আলোচনা, সমালোচনা, আসছে নানা প্রতিক্রিয়া।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সময়কালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই সংগঠনের এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। বিবৃতির ভাষা ও শব্দ চয়নের সমালোচনা করে বিবৃতিদাতাদের যোগ্যতা, সততা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

এমন বিবৃতি শুধু সংবাদ মাধ্যমের ওপর হুমকি নয়, মানবাধিকারের ওপর চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। গণমাধ্যমকর্মী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, উন্নয়নকর্মী গবেষক সবধরনের পেশার মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন বেরোবির শিক্ষকদের এমন বিবৃতিতে।

এ ঘটনাকে (বিবৃতি দেয়ার) দুঃখজনক উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল মণ্ডল লিখেছেন, ‘খুবই দু:খজনক। আমার ক্যাম্পাসেও মাঝে মাঝে এমন মৌখিক জ্ঞান শুনতে হয়। আমরা (শিক্ষকরা) মর্যাদা হারাচ্ছি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য।’

সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল মণ্ডলের পোস্টে লিংকন মোহাম্মদ লুৎফরজামান সরকার কমেন্টে লিখেন- ‘সম্পূর্ণ বিষয়টিই অগ্রহণযোগ্য! তবে বিশেষ দুঃখজনক হলো, ভাষার ব্যবহার ও শব্দচয়ন!

স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রভাষক নাসরিন আক্তার তার ফেসবুক ওয়ালে বিবৃতিটি খুবই লেইম! উল্লেখ করে লিখেছেন- প্রথমত মাননীয় (!)এই শিক্ষকদের এমন বিবৃতি পুরো সিস্টেমেরই একটা প্রতিফলন। দেখে সত্যি হাসি পাচ্ছে এই শিক্ষকেরা সাংবাদিক হিসেবে ওই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয় নিয়ে কি রিপোর্ট পাঠাবে তা দেখিয়ে নিতে বলছে, অবহিত করে নিতে বলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিষয়ে রিপোর্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে নিতে হয় এমন কোনো নিয়ম আছে কিনা আমার জানা নেই।

দ্বিতীয়ত, তাদের "স্পর্শকাতর" শব্দটা ব্যবহার নিয়ে। দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বরখাস্তও করেছে। তাহলে ব্যাপারটাতো বেশ প্রকাশিতই। এখানে স্পর্শকাতরতা কোত্থেকে আসলো? তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে, তাদের কর্ম নিয়ে রিপোর্ট হবে এটা তো স্বাভাবিকই। তার মানে তারা কি চায়? দুর্নীতি হবে, অনিয়ম হবে বাট রিপোর্ট করার আগে তাদের দেখিয়ে নিতে হবে?

তৃতীয়ত, শিক্ষকরা রিপোর্ট এর কোনো তথ্য ভুল থাকলে সে বিষয়ে সংশোধনী না দিয়ে কেনো শিক্ষার্থীদের উপর এভাবে চড়াও হয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন?

চতুর্থত, একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থী যেন চাকরি পান সেই ব্যবস্থা করেন, ভুল করলে তাকে ডেকে ভুলটা ধরিয়ে দেয়, তাকে চাকরিচ্যুতি করার জন্য আবেদন করেন কি? বিবৃতিটি খুবই লেইম!

সোহান সিরাজ নামের একজন নাসরিন আক্তারের পোস্টের মন্তব্যে লিখেছেন- এরা যদি শিক্ষকই হতো তাহলে এরকম কাণ্ড ঘটাতে পারতো না, কারণ গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে যে এভাবে নাক গলানো যায় না তা নূন্যতম শিক্ষিত লোকও জানে, অথচ এই মূর্খরা জানে না! এদের গালি দিলেও গালির অপমান হবে!!

অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ২৪.কমের মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট বিভাগের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) সোলাইমান নিলয় বিবৃতির ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘এমন পশ্চাদপদ চিন্তার মানুষরা রোকেয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!!!! ভাষা হারিয়ে ফেলছি।রোকেয়া বেঁচে থাকলে হয়ত এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করতেন। তবে মনের কথাটি মনে চেপে না রেখে প্রকাশ করায় আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

তিনি আরো লিখেন- প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি প্রত্যাহারের দাবি জানাতে ইচ্ছে করছে। অথবা তাদের অপসারণের। কোনটাই বাস্তবায়ন হবে না জানি। তাই অকারণ দাবি করছি না। তবে উনাদের ‘গণমাধ্যম নিরক্ষরতা’ দূর করতে কেউ একজন উদ্যোগ নেবেন-এমন আশা করা কি অন্যায় হবে? উনাদের কেউ কেউ ত্রিশ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবেন। কী শেখাবেন তারা??? শিউরে উঠছি।

প্রসঙ্গত, ২৪ জুলাই রাতে নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের আহবায়ক সুমাইয়া তাহসিন হামিদা এবং সদস্য সচিব খালিদ হাসান রিয়েল সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয় 'বাংলানিউজ২৪.কম' এর ক্যাম্পাস সংবাদদাতা মাহফুজুল ইসলাম বকুল, যুগান্তরের ক্যাম্পাস সংবাদদাতা রাব্বী হাসান সবুজ, ইত্তেফাকের ক্যাম্পাস সংবাদদাতা মোবাশ্বের আহমেদ ও মানবজমিনের ক্যাম্পাস সংবাদদাতা ইভান চৌধুরী পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করছে। কিন্তু এরা সকল সংবাদ কেন্দ্রীয় অফিসকে অবহিত করে না এবং এদের কাছ থেকে কোন গঠনমূলক রিপোর্ট পাওয়া যায় না বরং এরা এই দায়িত্বের অপব্যবহার করছে। এতে করে তারা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ও নিজেদের ক্ষতি করছে।

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তা যারা কিনা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মামলার আসামি, তাদেরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দৃশ্যত এরকম একটা স্পর্শকাতর' বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় অফিসে অবহিত করেনি।এ ব্যাপারে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই যা অনভিপ্রেত একটি ঘটনা এবং উদ্দ্যেশ্যমূলক। তাই নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকম-লীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এরকম ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস সংবাদদাতার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার জন্য। নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এদেরকে ও এদের আসল মদদদাতাদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।