নতুন আঙ্গিকে এবারের ঈদ

  • 13 May
  • 08:55 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 13 May, 21

ঈদ মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় আনন্দ উৎসব। পুরো বছর জুড়েই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণে। ঈদ মানেই যেন মেহেদি রাঙ্গানো হাতে নতুনত্বের স্বাদ, কচি বাচ্চাদের মাঝে আনন্দের ঢল আর সর্ব শ্রেণি-পেশার মানুষদের মাঝে এক মহামিলনের সুর। প্রতি বছরই ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি-নীতির মধ্য দিয়েই পালিত হয় এই উৎসবটি। ঈদকে কেন্দ্র করেই জমে ওঠে নতুন কাপড় কেনার উৎসব। প্রিয়জনদের উপহার দেয়ার তীব্র টানেই বাজারমূখী হয় জনতা। পথে-ঘাটে জমে উপচে পড়া ভীড়। বাড়ি ফেরার ব্যকুলতা লেগে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে। ঈদের দিন নিজেকে নতুন কাপড়ে মুড়িয়ে নেয়া, ঈদগাহে নামাজ আদায় করা, সকলের সাথে কোলাকুলি করা, অন্যদের মিষ্টিমুখ করানো, আপনজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়াসহ নানা আয়োজনের পসরা জমে ওঠে। ঈদ আমেজের প্রফুল্লতায় নতুন করে সব কিছু সাজানোর স্বপ্ন দেখে মুসলিম সম্প্রদায়। এই আনন্দের রেশ থেকেই যায় পরবর্তী কয়েকদিন অবধি।

তবে মহামারী করোনার থাবায় গতবার থেকে ঈদ আনন্দে বাজছে যেন ফাটলের সুর। এবারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আরও প্রবল আকার ধারণ করেছে। নেদারল্যান্ডের দুটো জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে করোনার ৩৪টি নতুন রূপ পাওয়া গেছে। ফলে বেড়ে গিয়েছিল সংক্রমণের হারও। এর থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে সরকার লকডাউন জারি করলে এতে সর্বস্বান্ত ও নিঃস্ব হতে বসেছে অনেকেই। দরিদ্র শ্রেণীর হার ও মাত্রা উভয় বেড়ে গেছে। সানেমের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, এ দেশে দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশ। যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া, পারিবারিক আয়ও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সিডিপির জরিপ-২০২১ অনুযায়ী ৪৫% পরিবারের আয় কমেছে। তাদের কাছে ঈদ এখন অন্য দশটা দিনের মতোই ধরা দেবে। দেশব্যাপী চলমান লকডাউনে কর্মক্ষেত্র থেকে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারছে না অনেকেই, তাদের ঈদটিও এবার মলিন রূপ নিচ্ছে। দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ শোলাকিয়ায় প্রায় তিন লক্ষ মুসল্লী ঈদ নমাজে শরীক হলেও এবার সেখানেও কমে যাবে উপস্থিতি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, নিকটবর্তী ঈদগাহে বা যথাসম্ভব নিজ স্থানে অবস্থান করেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। প্রতিবারের মত সকলের সাথে কোলাকুলি করে যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সবাই আবদ্ধ হয় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাও এবার সম্ভব হয়ে উঠবে না।

তবে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখায় আক্ষরিক অর্থে এবারের ঈদে আনন্দ লাভ করা সম্ভব না হলেও আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেককে অদৃশ্য প্রেম-বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারি। করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরেই ঈদ উৎসব পালন করে করোনা থেকে যেমন নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারি তেমনি সমাজকে বাঁচাতেও দীর্ঘ একমাস রোজা পালনের ত্যাগ-তিতিক্ষা, সহমর্মিতা ও সংযমের শিক্ষানুযায়ী ঈদে পরোপকারের মার্মবাণী বুকে ধারণ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের দিকে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, কাছে টেনে নিতে পারি পথশিশুদেরকেও। এতে করে সমাজের সর্বত্র সুখের উল্লাস ছড়াবে। ঈদ আনন্দ হবে সার্বজনীন। এক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষকে ভালো রাখতে নিবেদিতপ্রাণ হতে পারে সামর্থ্যবানরা। সরকারের পাশাপাশি তাদেরও সহমর্মিতা পেলে হাসি ফুটবে সাধারণ মানুষের মুখে। "ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ' এই আদর্শ ধারণ করে ভিন্ন ধারায় নতুন আঙ্গিকে উদযাপিত হোক এবারের ঈদটি।


-রুকাইয়া মিজান মিমি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।