দেশে প্রথমবারের মতো কাটাছেঁড়া ছাড়াই হার্টে সফল অস্ত্রপাচার

  • 27 Aug
  • 08:04 AM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 27 Aug, 19

প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে কাটাছেঁড়া ছাড়াই হার্টে সফল অস্ত্রোপচার করলো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসকারা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ধরনের অস্ত্রোপচারকে বলা হয়, মিনিমাল ইনভ্যাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি (এমআইসিএস)। এ প্রক্রিয়ায় বুকে ওপেন হার্ট সার্জারির পরিবর্তে ছোট একটি ছিদ্রের মধ্য দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।

চিকিৎসকরা বুকের হাড় অর্থাৎ স্টানার্ম না কেটে দুটি হাড়ের (রিবস) মধ্য দিয়ে অস্ত্রোপচার করেন। এতে ব্যথা কম লাগে, রোগীরাও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ মিনিমালি ইনভাসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক সার্জন ডা. আশরাফুল হক সিয়াম। দেশে এ ধরনের অস্ত্রোপচার সরকারি হাসপাতালে প্রথম হলেও এর আগে বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয়েছে।

রবিবার রাতে হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল হক সিয়ামের নেতৃত্বে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। ১২ বছর বয়সী শিশু নূপুরের এ অস্ত্রোপচারে মোট ১০ জন চিকিৎসক অংশ নেন। এরপর সোমবার (২৬ আগস্ট) ডা. সিয়াম গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই এই অস্ত্রোপচারের সবটা জানতেন। অস্ত্রোপচারের সময় তিনি বারবার খোঁজ নিয়েছেন। পরে রোগীর অবস্থা সর্ম্পকে জেনেছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন চিকিৎসক দলকে।

নূপুর অ্যাট্রিয়াল সেপটাল ডিফেক্টের (এএসডি) রোগী। তার হার্টের ওপরের দুটি চেম্বারে ছিদ্র ছিল।

ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, বুকের পাঁজরের তিন বা চার নম্বর রিবসের মধ্যে দিয়ে আমরা ছোট্ট একটি ছিদ্র করি, দুই ইঞ্চির মতো আড়াআড়ি ভাবে কেটে তারপর অপারেশন করি। ফুসফুসকে চাপা দিয়ে কাজটি করা হয়।

এটিকে হার্টের লেপারোস্কোপি সার্জারি বলতে পারেন। খুব ছোট্ট একটা ছিদ্র করে এ কাজ করা হয়। এতে সাধারণত ইনফেকশনের ঝুঁকি কম থাকে, রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও কম, অস্ত্রোপচার পরবর্তী অস্বস্তি কম হয়, ক্ষত দ্রুত সারে, রোগী তাড়াতাড়ি হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় যেতে পারেন।

তিনি বলেন, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপের অনেক দেশে হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কনফারেন্সে এমআইসিএস-এর কথা শোনেন তিনি। কাটাছেঁড়া না হওয়া রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। অস্ত্রোপচারের তিন-চার দিনের মাথায় রোগী বাড়ি চলে যেতে পারে।

ট্রাডিশনাল অস্ত্রোপচার থেকে এমআইসিএসে খরচ অনেক কম বলেও জানান তিনি।

ডা. সিয়াম জানান, হাসপাতালের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল এ অস্ত্রোপচারে অংশ নিয়েছে। এতে ছিলেন ডা. আসিফ, ডা. শাহরিয়ার, ডা. গফুর, ডা. রুমু, ডা. মন্জুর, ডা. ওয়াহিদা, ডা. আহসানারা প্রমুখ। অ্যানেস্থেসিস্ট ছিলেন অধ্যাপক ডা. শাহনাজ ফেরদৌস, ডা. আমীরুস সালাম, কার্ডিওলজিস্ট ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান পাটোয়ারি ও ডা. সাহানা।