অসহায় দুলাল মিয়ার পাশে সন্ধানীর যাকাত ফান্ড এবং ত্রাণ ফান্ড

  • 29 June
  • 07:07 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি 29 June, 20

দুলাল মিয়ার বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে। লকডাউনের শুরু হবার আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসেন রিকশা চালাতে।দুর্ভাগ্যবশত ঢাকায় এসেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর দিনাজপুরে ফিরে যান শূন্য হাতে।
কিন্তু, পেট তো আর মহামারি মানে না!
ভেবেচিন্তে ঠিক করলেন ভ্যান চালাবেন। কেনার জন্য একটা ভ্যান দেখেও ফেললেন ।কিন্তু টাকা?
কিছু টাকা লোন নেয়ার ব্যবস্থা হলেও বাকি টাকার সংকুলান হচ্ছিল না কোন ভাবেই। দুলাল মিয়া সাহায্যের আশায় ফোন দিলেন সন্ধানীর ২০১৮-১৯ সেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল্লাহ আল মুঈদ তিলককে। ছোটবেলায় তাঁকে রিকশায় করে স্কুলে পৌছে দিতেন দুলাল মিয়া।

আব্দুল্লাহ আল মুঈদ তিলক এর মাধ্যমে জানতে পেরে সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের পক্ষ থেকে দিনাজপুরের সন্ধানী এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ইউনিটের সভাপতি জি. এম. রিফাত এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
তারই ফলশ্রুতিতে ২০১৮-১৯ সেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মুশফিক উল মুকিত এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. মোঃ জাহিদুল ইসলাম বিজয় এবং কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মোঃ হোসাইন শাহাদাত এবং ডা. তাসমিনুল করিম ইমু এর উপস্থিতিতে গতকাল ২৮ জুন রোজ রবিবার দুলাল মিয়াকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান হস্তান্তর করা হয়।
দুলাল মিয়াকে আর লোন নিতে হয় নি।সন্ধানীর যাকাত ফান্ড এবং ত্রাণ ফান্ড থেকে ভ্যানের সম্পূর্ণ খরচ বহন করা হয়েছে।

যাঁরা ডাকে সাড়া দিয়ে সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের ত্রাণ তহবিলে অর্থ ও যাকাত দান করেছেন সবাইকে সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের অধীনে করোনা মহামারীর এ সময়ে প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগে জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটিকে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রত্যেক জেলায় সন্ধানী ক্র্যাক প্লাটুন ভলান্টিয়ার টিম তৈরি করা হয়েছে।এর মাধ্যমে প্রত্যেক জেলায় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া,জরুরি প্রয়োজনে রক্তের যোগান দেয়া,করোনা মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।এছাড়াও ঢাকা ও তাঁর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চিকিৎসক,মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ তাঁদের স্বজনদের জন্য (করোনা আক্রান্ত) বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদান করছে।
এভাবে অসংখ্য দুলাল মিয়ার পাশে দাঁড়াতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে সন্ধানী।