দিল্লিতে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

  • 26 Feb
  • 02:51 AM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 26 Feb, 20

ভারতের দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব থেকে সৃষ্ট সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার শুরু হওয়া ওই সহিংসতায় অন্তত ৭০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিতর্কিত সিএএ আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান নিয়ে টানা দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন নারীরা। ওই অবস্থানের কারণে বন্ধ হওয়া সড়ক কর্তৃপক্ষ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে জাফরাবাদ মেট্রোস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জবাবে পরদিন (রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মৌজপুর চকে সিএএ সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। হিন্দুত্ববাদী কপিলের সেই উসকানির পর সহিংসতা নতুন মাত্রা পায়। তাণ্ডব চালানো হয় মসজিদসহ মুসলিমদের দোকানে। হতাহত হয় বহু মানুষ।

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের দফতরে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। পরে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সিলামপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরী চক প্রভৃতি জায়গাও পরিদর্শন করেন অজিত ডোভাল।

ভারতের রাজধানীতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ছিলেন আইপিএস অফিসার এসএন শ্রীবাস্তব। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার পর মঙ্গলবার তাকে বিশেষ পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারপরও সেখান থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর আসে।

এক আদেশে গত তিন দিনে রাজধানীর সহিংসতায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন দিল্লির হাইকোর্ট।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আর কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিল্লির সঙ্গে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যের সীমান্ত পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে সোমবার ওই সহিংসতা আরও জোরালো হয়ে উঠলে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত চার জন নিহত হয়। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে আবারও সহিংসতা শুরু হয়। ভজনপুর এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরের দিকে তেড়ে যায়। পুলিশি উপস্থিতির অবহেলা সহিংসতা আরও খারাপ করে তোলে। চান্দবাগ এলাকায় পর্যাপ্ত সদস্য না থাকায় সহিংসতা ঠেকাতে এগিয়ে যায়নি পুলিশ।