তেইশে পা রাখলো দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ হাবিপ্রবি

  • 11 Sept
  • 09:19 AM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি সংবাদদাতা 11 Sept, 21

প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পেরিয়ে আজ (১১ সেপ্টেম্বর) ২৩ এ পা রাখলো দেশের স্বনামধন্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)।

দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অপার সম্ভাবনা অর্জনে এগিয়ে চলছে এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ এ পথচলায় প্রাপ্তির খাতায় যেমন যুক্ত হয়েছে নানা অর্জন, তেমনি ছোট নয় অপ্রাপ্তির পাতাও। ২৩ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তেভাগা আন্দোলনের জনক দিনাজপুর অঞ্চলের জনদরদী কৃষকনেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর নামানুসারে এই বিদ্যাপীঠের নামকরণ করা হয়। ইতিমধ্যে উত্তর অঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসাবে পরিচিত পেয়েছে হাবিপ্রবি।

মাত্র একটি অনুষদ ও সামান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৩ টি ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও ৯ টি অনুষদের অধীনে ৪৫ টি বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে হাবিপ্রবিতেই সর্বপ্রথম ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজারি সার্ভিস (ক্যাডস) সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। এটি উদ্বোধন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে বিদেশে বিনামূলে চাকরির খবরাখবরের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের স্কলারশীপের তথ্য পাওয়া সহজতর হয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রথম মোবাইল ভেটেনারি ক্লিনিক সেবা ও কৃষক সেবা কেন্দ্র চালু করেছে হাবিপ্রবি। যার ফলে একদিকে যেমন দিনাজপুর জেলার মানুষের গবাদি পশুপাখির উন্নত চিকিংসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে ঠিক তেমনি কৃষকদের বিভিন্ন ফসল ফলাদি উৎপাদন সম্পর্কে তথ্য ও পরামর্শ দেয়া সহজতর হচ্ছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য রয়েছে ৩১৪ জন উচ্চদক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে হাবিপ্রবিতে সব থেকে বেশী (প্রায় ২০০জন) বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রায় ২০০ জনের অধিক কর্মকর্তা এবং কয়েকশত কর্মচারী।

গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রয়েছে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (আই.আর.টি.) সেন্টার। হাবিপ্রবিতে গবেষণালব্ধ থিসিস, রিপোর্ট, জার্নালের পাশাপাশি রয়েছে ১০ হাজারের বেশি বইয়ের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি (এসি ও নন এসি)। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে কয়েকশত প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি সহ বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য গাছ-গাছালির আকর্ষণীয় সংগ্রহ। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬৫০০০ হাজার টাকা ।

সাম্প্রতিক সময়ে হাবিপ্রবির ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মারুফ হাসানের কালোজামের জুস ও অধ্যাপক ড. মো: সাজ্জাদ হোসেন সরকারের নেতৃত্বে তৈরি টু স্টেজ গ্রেইন ড্রায়ার মেশিন দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান বলেন, 'বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ ও মানব সম্পদ তৈরীর গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই দর্শনকে সামনে রেখেই ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামানুসারে ১৯৯৯ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাবিপ্রবির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী করার লক্ষ্য অর্জনে একজন প্রকল্প পরিচালক এবং সাবেক ছয়জন ভাইস চ্যান্সেলরের নের্তৃত্বে হাবিপ্রবি আজকে বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে ছয়টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করাসহ প্রকৌশল ক্ষেত্রে একটি ড্রায়ার এবং বিভিন্ন ধরণের কৃষি খামার যন্ত্র উদ্ভাবিত হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমার লক্ষ্য এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা এবং গবেষণা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই প্রেক্ষাপটে আমি হাবিপ্রবির ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী,এ্যালামনাই,শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

উপাচার্চ আরও বলেন, 'আমি আশা করি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ক্ষেত্রকে সম্প্রসারণের মাধ্যমে মাঠ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেইসাথে সেন্ট্রাল ল্যাব কনসেপ্ট ধারণ করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষণা কার্যক্রম রয়েছে সেটিকেও ত্বরান্বিত করা যাবপ। পাশাপাশি ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তী পালনে আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কনভোকেশন আয়োজন করাসহ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিংকে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়াও হচ্ছে আমাদের অন্যতম একটি বড় লক্ষ্য'।