তিনবার মেয়াদ বাড়লেও, বাড়ে নি কাজের গতি

  • 21 Sept
  • 06:47 PM

মাহমুদুল হাসান নয়ন, কুবি প্রতিনিধি 21 Sept, 21

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশের নির্মাণকাজ ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় শেষ হয়নি ৬৫ মাসে, অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ বছরেও।

২০১৬ সালের ৩১ মে ১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা বাজেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশের কাজ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টার লাইট সার্ভিস লিমিটেডকে। কাজ শুরুর ১৫ মাসের মধ্যে প্রশাসনের কাছে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে ৫ বছর পরও সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে নিমার্ণাধীন ভবন ঘুরে দেখা যায়, ভবনের ভিতরে ও বাইরে কোনোরকমে পলেস্তরা শেষ করে ভিতরে টাইলসের কাজ শুরু করা হয়েছে। বাথরুম, গোসলখানা, পানির লাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দরজা-জানালা লাগানোসহ প্রায় অধিকাংশ কাজ এখনও বাকি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি থেকে ঠিকাদারকে বারবার চাপ সৃষ্টির পরও দায়সাড়াভাবে মাত্র ৫-৬ জন শ্রমিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে বলতে পারছেন না কেউ।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি দাবি করে শিক্ষার্থীরা জানান, ৬৫ মাসেও হলটি বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠেনি। ঠিকাদারদের নিজস্ব লাভের জন্য শিক্ষার্থীদের মাসের পর মাস ভাড়া বাসা কিংবা মেসে থাকতে হচ্ছে।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টার লাইট সার্ভিস লিমিটেডের ঠিকাদার আমির হোসেন মিলন বলেন, 'আমাদের এই প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশের মতো শেষ। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও নভেম্বরের মাঝেই আমি চেষ্টা করবো হস্তান্তর করার জন্য। তবে প্রশাশন থেকে চাইলে সামনের মাসে দুইটি ফ্লোর ব্যবহার করতে পারবে।'

এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব এস. এম. শহিদুল হাসান বলেন, 'এবার বঙ্গবন্ধু হলের বর্ধিতাংশের কাজ খুব দ্রুত হয়েছে। আশা করি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আগামী ২ মাসের মাঝে হলটি হস্তান্তর করতে পারবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে খুব দ্রুতই কাজের গতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ভিজিট করতে যাবো।'

বার বার মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শেষ করতে না পারার কারন জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, 'আমরা এ ব্যপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি তারা বলেছে প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদার দিয়ে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য। বঙ্গবন্ধু হলের প্রকল্পের মেয়াদ যেহেতু ডিসেম্বর পর্যন্ত আছে এবং কাজ যেভাবে এগুচ্ছে আশা করি নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিতরেই শেষ হবে। '