ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটির উদ্যোগে ‘আইওটি’ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

  • 13 Apr
  • 08:05 AM

রাহেদুল ইসলাম, ডুয়েট প্রতিনিধি 13 Apr, 21

প্রতিনিয়ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্ট ফোনের বিভিন্ন এ্যাপ ও কম্পিউটার সফটওয়্যারের ব্যবহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। ধীরে ধীরে ব্যবহারের সব ডিভাইস হয়ে যাচ্ছে স্মার্ট, যুক্ত হচ্ছে ইন্টারনেটের সাথে। লাইট, ফ্যান এসিসহ সব নিত্যব্যবহার্য যন্ত্রপাতি চালাতে পারছি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেশিরভাগ মনিটরিং ও কন্ট্রোলিং এখন চলে যাচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড অটোমেশনের দিকে। খুব সহজে নিজের প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ির অবস্থা জানতে পারছি মোবাইল ফোনে নিমিষেই। দৈনন্দিন জীবনে সহজ করে দেয়া কাজ গুলোর টেকনিক্যাল সব দিক নিয়ে হাতে কলমে শিক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(ডুয়েট), গাজীপুর এর উদ্ভাবনী মনোভাব সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের একমাত্র সংগঠণ “ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটি”র উদ্যোগে সকল ছাত্রছাত্রীদের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো অনলাইনের মাধ্যমে আয়োজন করেছিল ৮, ৯ ও ১১ এপ্রিল এই তিন দিন ব্যাপি আইওটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা “Workshop on IoT Based Hardware & Software Simulation”। এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদেরকে ইন্টারনেট ও রোবটিক্সের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠান, ইন্ডাষ্ট্রি ও বাসাবাড়ির বিভিন্ন লোড কন্ট্রোলিং ও সেন্সর ক্যালিব্রেশন শিখনের মাধ্যমে দক্ষ আইওটি ডেভেলপার হিসেবে তৈরী করার চেষ্টা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইওটি প্লাটফর্মগুলো ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়েছে।

যেসকল টপিকের আলোকে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে:
১. আইওটি ভিত্তিক ইনোভেটিভ প্রজেক্ট আইডিয়া তৈরীকরণ। ২. সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হার্ডওয়্যার প্লাটফর্ম সম্পর্কে ধারণা। ৩. আইডিয়ার আলোকে রোবটিক্স সেন্সর ও লোড ক্যালিব্রেশন। ৪. ডাটাবেইজ ডিজাইনিং ও ডাটাবেইজ এর সাথে হার্ডওয়্যার ডিভাইস কমিউনিকেশন। ৫.এন্ড্রয়েড ও আইওএস ভিত্তিক কয়েকটি আইওটি এপ্লিকেশনের আলোকে বর্ণনা। ৬. ডাটাবেইস ও মোবাইল এপ্লিকেশনের ক্যালিব্রেশন।
তিন দিনের এই কর্মশালার উপর ভিত্তি করে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সর্বনিম্ন সময়ে সর্বাধিক সঠিক উত্তরদাতাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ী প্রথম ৩ জন পেয়েছেন রোবমেন্ট আর্ডি ল্যাবের পক্ষ থেকে আইওটি কিট। বিজয়ী সেরা ১৫ জন পেয়েছেন রোবমেন্ট রিসার্চ ল্যাবে বিনামূল্যে অনলাইন ও ফিজিক্যালি আইওটি ট্রেইনিং এর সুযোগ। একই সাথে সার্টিফিকেট।
৩৬৭ জন শিক্ষার্থীদের প্রতি দশজনে একজন করে মেন্টর নিযুক্ত ছিল যারা ওয়ার্কশপ এর শুধু থেকে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের সকল ধরণের সাপোর্ট দিয়ে গেছে। মেন্টর ট্রেনিং চালু ছিল ৩১শে মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। ওয়ার্কশপের আহ্বায়ক ছিলেন সিদরাত মুনতাহা নুর প্রান্ত সহ আহবায়ক হিসাবে ছিলেন জারিন তাসনিম ও দ্বীপ চৌধুরী।
তিনদিনের এই ওয়ার্কশপে কীনোট স্পিকার ছিলেন প্রফেসর ডঃ ফজলুল হাসান সিদ্দিকী (বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)। ট্রেইনিং সেশন পরিচালনায় ছিলেন রোবমেন্ট রিসার্চ ল্যাব এর প্রধান সমন্বয়ক সুকান্ত শর্মা শিপ্লব এবং এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার পাপ্পুরাজ ভট্টাচার্য।

ওয়ার্কশপের কনভেনার ও ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সিদরাত মুনতাহা নূর প্রান্ত বলেন, বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজেশনের দিকে নিয়ে যেতে দেশের জনশক্তির এক অংশকে অবশ্যই আইওটি এর বাস্তব প্রয়োগে দক্ষ হতে হবে। ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটি সবসময় দেশের উন্নয়নে দৃঢ প্রতিজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের যথাযথ সহযোগীতা পেলে সারা দেশে চার ধাপে তথা এন্ট্রেন্স, বেসিক, মিডিয়াম ও এডভান্স লেভেলে আইওটি শিক্ষাসহ নানা ইনোভেটিভ কর্মকান্ডে তিনি ও ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটি কাজ করবেন। ফান্ডের অপ্রতুলতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকা স্বত্বেও উচ্চতর গবেষণা করতে পারছে না ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটির সদস্যরা। ইনোভেট টু ইলুমিনেট এই মোটোকে ধারন করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ডুয়েট ইনোভেশন সোসাইটি।
প্রফেসর ডঃ মোঃ আসাদুজ্জামান চৌধুরী কর্মশালা বিষয়ে বলেন
বিজ্ঞান এর সকল শাখাই একে অন্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এছাড়াও ভবিষ্যতে IoT এর গুরুত্ব আরো বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

এ কর্মশালার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ মোঃ হাবিবুর রহমান। ডুয়েটের অন্যান্য অতিথিরা ছিলেন প্রফেসর ডঃ মোঃ মোখলেছুর রহমান (ডীন, সিভিল অনুষদ), প্রফেসর ডঃ মোঃ আজমল হোসাইন (ডীন, বিজ্ঞান অনুষদ), প্রফেসর ডঃ মোঃ কামরুজ্জামান (ডীন, মেকানিক্যাল অনুষদ), প্রফেসর ডঃ মোঃ রাজু আহমেদ (ডীন, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ)। এছাড়াও আরও ছিলেন প্রফেসর ডঃ মোঃ আব্দুস শহীদ (বিভাগীয় প্রধান, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ রুমা (বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ ফজলুল হাসান সিদ্দিকী (বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ মোঃ আরেফিন কাউসার (বিভাগীয় প্রধান ,মেটারিয়ালস এন্ড মেট্রোলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ মোঃ আব্দুর রশিদ (বিভাগীয় প্রধান , আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ মোঃ আব্দুল হান্নান মিয়া (বিভাগীয় প্রধান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ মোঃ নাজিম উদ্দিন (বিভাগীয় প্রধান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট), প্রফেসর ডঃ মোঃ জয়নাল আবেদীন (বিভাগীয় প্রধান, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট) সহ প্রমুখ।