তরুণদের ‘নোবেল প্রাইজ’ খ্যাত ডুয়েটে ‘হাল্ট প্রাইজ’ এর শুভযাত্রা

  • 14 Nov
  • 09:58 PM

এস এম নূর প্রান্ত 14 Nov, 20

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা অঙ্গনের অবিচ্ছেদ্য এক নাম। বঙ্গবন্ধুর "সোনার বাংলা" বিনির্মাণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীগণ দেশের সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে । এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে অনন্য এক অর্জন। এ বছর ডুয়েটে শুরু হতে যাচ্ছে তরুণদের "নোবেল প্রাইজ" খ্যাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রাম "হাল্ট প্রাইজ" যেখানে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী টিম-কে ১মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়।

বর্তমান বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা এবং নির্মূল করার লক্ষ্যে তরুণদের জন্য "হাল্ট প্রাইজ " হলো একটি বিশ্বখ্যাত মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

২৫ টি দেশের ১,০০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০০৯ সালে হাল্ট প্রাইজের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে "অ্যামেরিকার ৪২তম প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন" হাল্ট প্রাইজে যোগ দেন।২০১২ সালে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী "ড. মো. ইউনুস" হাল্ট প্রাইজে যোগদান করেন।

২০১০ সালের মার্চ মাসে ফাউন্ডার এন্ড সি.ই.ও হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন Ahmad Ashkar,MBA শিক্ষার্থী Tamara Sam, Carolin Bachmann, Jose Escobar এবং Nabil Chaachou "গ্লোবাল কেস চ্যালেঞ্জ" চালু করেছিলেন এবং পরে নামকরণ করা হয়েছিল "হাল্ট প্রাইজ"।

২০১১ সালে প্রতিযোগির সংখ্যা বেড়ে ৫,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বর্তমানে ২,০০০ এরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করছে, যেখানে প্রতিযোগির সংখ্যা ৩,০০০০০ এরও বেশি।

প্রথম বারের মত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) "হাল্ট প্রাইজ"-এ অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অন্যান্য হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে চলমান মহামারী পরিস্থিতির কারণে প্রার্থীদের অনলাইনে ভাইভা গ্রহণের মাধ্যমে গত ২৮ অক্টোবর ২৬ সদস্য বিশিষ্ট এক্সিকিউটিভ কমিটি ও ২১ সদস্য বিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

"হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন-ডুয়েট" এর চীফ এডভাইজার হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন ড.মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, প্রফেসর, ডিপার্টমেন্ট অফ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট।

মেন্টর হিসেবে রয়েছেন সম্মানিত শিক্ষক মোঃ রাকিবুল ইসলাম, (সহকারী অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), যার অসামান্য অবদান ও অনুপ্রেরণায় ডুয়েটে হাল্ট প্রাইজের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়াও আরো রয়েছেন সম্মানিত শিক্ষক মোঃ সুমন মিয়া(সহকারী অধ্যাপক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), ইঞ্জিনিয়ার অম্লান কুমার দত্ত(ডেপুটি ম্যানেজার, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, লক্ষীপুর)।

ডুয়েটে হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন এর শুভসুচনার এই বিশ্বখ্যাত অর্জন এর কৃতিত্ব অর্জন করেন সিভিল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুগোল মালো , তিনি ডুয়েট হাল্ট প্রাইজ এক্সিকিউটিভ কমিটির সম্মানিত ফাউন্ডার ক্যাম্পাস ডিরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ডেপুটি ক্যাম্পাস ডিরেক্টর হিসেবে দ্বায়িত্ব পেয়েছেন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী "মো. জিহাদী হাসান জুবেল"।

এক্সিকিউটিভ কমিটিতে ডুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন, নির্বাচিত সদস্যরা হলেন
রতন কুমার সাহা(হেড অফ ব্র্যান্ড এণ্ড মার্কেটিং) ; প্রণয় সাহা(কপি রাইটার) ; মো. সোহেল রানা(হেড অফ স্টুডেন্টস আউটরিচ এণ্ড এক্সপেরিয়েন্স); মো. আহসান হাবিব(বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর); যারিন তাসনিম তামান্না (সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার); মো. বেলাল হোসেন (ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর) ; হৈমন্তী কবিরাজ স্নেহা(হেড অফ জাজ ম্যানেজমেন্ট); মেহেদী হাসান (কনটেন্ট কিউরেটর) ; মনিকা সুলতানা হিরা(হেড অফ পাবলিক রিলেশন) ; জেরিন আক্তার সুমা(জাজ কো-অর্ডিনেটর) ; মো. রিয়াদ আহমেদ (হেড অফ প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট); হাবিবা আক্তার (লজিস্টিক কো-অর্ডিনেটর) ; উজ্জল কুমার(জাজ ফ্যাসিলিটেটর); ফারজানা আক্তার (গ্রাফিক্স ডিজাইনার) ; সাইফুল্লাহ মাহমুদ (আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর) ; মো. আশরাফুল ইসলাম (হেড অফ করপোরেট রিলেশনস); মো. সুজন সরকার (স্পন্সরস কো-অর্ডিনেটর) ; সুদীপ পাল(টিমস কো-অর্ডিনেটর) ; সুদীপ কুমার বিশ্বাস (ট্রেইনিং কো-অর্ডিনেটর) ; আমিনুর রহমান (ফটোগ্রাফার) ; এস. এম. সাহেদুর রহমান ( আই.টি. স্পেশালিষ্ট) ; মোঃ মুন্না গাজী(ভিডিও ইডিটর); সিদরাত মুনতাহা নুর প্রান্ত(ভিডিওগ্রাফার); সাহাব উদ্দিন রানা(মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর) ; নুরুজ্জামান নুর(ফুড এণ্ড বেভারেজ কো-অর্ডিনেটর)।

এই বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০০ টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবেন। এই প্রতিযোগিতা কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজয়ী টিম-কে আঞ্চলিক বাছাই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়। এরপর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী টিম-কে ১মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় Hult International Business School এবং The United Nations Foundation এর যৌথ উদ্যোগে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি "বিল ক্লিনটন" প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জের বিষয়টি নির্বাচন করেন এবং প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

যাত্রা শুরুর পর থেকেই হাল্ট প্রাইজ প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে আসছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২০ সালের চ্যালেঞ্জ টপিক ছিল "জলবায়ু পরিবর্তন"।
এরই ধারাবাহিকতায় এবছরও একটি চ্যালেঞ্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।

"হাল্ট প্রাইজ-২০২১" এর চ্যালেঞ্জ হলো "Food For Good: Transforming food into a vehicle for change."

"হাল্ট প্রাইজ ফাউণ্ডেশন"-এর মাধ্যমে তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তারা তাদের মেধা মনন ব্যবহার করে 'খাদ্য' সম্পর্কিত একটি নতুন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে যা একটি কার্যকর ফুড এন্টারপ্রাইজ তৈরি করবে যা আগামী দশকে ১০ মিলিয়ন মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করার সাথে সাথে সম্প্রদায়গুলিকে শক্তিশালীকরণ, আয় বৃদ্ধি, ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে ।

এছাড়াও এমন একটি আইডিয়া কম্পিটিশন এর মাধ্যমে একটি কার্যকরী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা গঠনের পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের বিশেষ করে আমাদের দেশের এবং সামগ্রিক বিশ্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পেতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।