'ডিজিটাল বাংলাদেশ' স্বপ্ন নয়- বাস্তবতা

  • 13 Dec
  • 08:38 PM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ 13 Dec, 20

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে এক ধাপ এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশ সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' বাস্তবায়নের অঙ্গিকার। বিজয়ের প্রায় অর্ধশত বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজ রোপণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়- বাস্তবতা। তথ্যপ্রযুক্তির বাহনে চড়ে দুরন্ত গতিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল সেবা। দুর্গম প্রান্তিক এলাকার পিছিয়ে পড়া জনসাধারণ থেকে শুরু করে শহুরে জীবনেও লেগেছে ডিজিটাল স্পর্শ। ফলে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' এখন যাপিত জীবনকে বদলে দেওয়া এক সফল অভিযাত্রার নাম।

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার আর ফেসবুক ব্যবহার করেন দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ। প্রযুক্তিনির্ভর এ পৃথিবীতে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, পড়াশোনা সবকিছুতেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কল্যাণে এখন ঘরে বসেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী খুব সহজেই পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। আর ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যবসা, উদ্যোক্তা তৈরি, পণ্যের প্রচার ও প্রসার ঘটছে খুব সহজেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পাচ্ছেন কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য। প্রতারণা বা সহিংসতার শিকার হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় জরুরি সেবা। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যও এখন ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এখন ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনজনদের টাকা পাঠানো, বিদ্যুৎ বিল, গ্রামীণ মায়েরা সন্তানের উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেন। এখন আর কয়েক কিলোমিটার দূরে ব্যাংকে যেতে হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশে বড় পরিবর্তন এসেছে ‘উবার-পাঠাও’-এর মতো রাইড শেয়ারিং সেবা চালু হওয়ায়। এতে যুবসমাজের কর্মসংস্থান যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি যাতায়াতে সুবিধাও বেড়েছে।

'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যে জনগণের দাঁড় গোঁড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ ওয়েবসাইট ভিজিট করে পাওয়া যাচ্ছে যাবতীয় সকল তথ্য।ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম জাতীয় অঙ্গীকার হচ্ছে ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে দেশ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রাধিকার থাকতে হবে। সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। প্রতিটি ঘরকে তার বা বেতার-পদ্ধতিতে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক-ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। দেশের সব অঞ্চলের জনগণকে ডিজিটাল যন্ত্রে সজ্জিত করাসহ ডিজিটাল ডিভাইস প্রণয়ন করা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য হবে।

বাঙালির স্বাধীনসত্তা বিকাশের বড় প্রতীক জয় বাংলা খচিত 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১'। দেশের সবকটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ১৯ মে থেকে 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' ব্যবহার করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে বিবেচনায় রেখে যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের উপরে। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে পতিত আবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে যে শিল্পোন্নয়নের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরে প্রজন্মের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চোখেই দেখা যাচ্ছে। দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলা, দক্ষিণ এশীয়ার সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হতে বেশিদিন বেশি দিন আর নাই অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশের তালিকা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপান্তরের পথে, আর এই স্বপ্ন এবার তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার মধ্য দিয়ে সত্যি হতে চলেছে। প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণে অনেকখানি এগিয়ে গেছেন। মানুষের জরুরি সেবাগুলোর প্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং এরই মধ্যে তা জনগণের দ্বারেদ্বারে পৌঁছে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, এটি এখন বাস্তবতা।


মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়