ডিএলএস এর অধীনে ভেটেরিনারি সেক্টর বলে কিছু নেই- প্রতিবাদ লিপিতে বললো বাহা

  • 06 Sept
  • 09:23 PM

পবিপ্রবি প্রতিনিধি 06 Sept, 21

বাংলাদেশ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী এসোসিয়েশন বা বাহা হলো বাংলাদেশে এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন যাদের মূল লক্ষ্য হলো এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী বিষয়ক জ্ঞান সকলের মাঝে প্রচার করা এবং পেশাগত যেকোন সমস্যায় দ্রুত কার্যকরী ভূমিকা পালন করা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্ভিস রিকুয়েটমেন্ট পলিসি-১৯৮৫ অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস(লাইভস্টক) ক্যাডারের মাধ্যমে ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) এবং এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী (এএইচ)তে গ্রাজুয়েট নিয়োগ পেয়ে আসছে। লাইভস্টক সেক্টরে নিয়োগের মাধ্যমে ডিভিএম এবং এএইচ উভয় প্রফেশন প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে আসছে‌ নিরলসভাবে।প্রাণির জাত উন্নয়নের সাথে সাথে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাদের প্রাণিজ খাদ্য ও পুষ্টির বড় জোগানদাতাই হলো লাইভস্টক সেক্টর।অথচ গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে একটি পত্রিকায় ,"81% of the Total Animal Protein came from the veterinary sector in 2021: Leader in the national nutrition supply" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রকাশিত শিরোনামের সাথে অভ্যন্তরীণ লেখনীর মিল না থাকায় পাশাপাশি ভেটেরিনারি সেক্টর বলে কোন সেক্টরের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও শিরোনামে ভেটেরিনারিকে একটি সেক্টর হিসেবে উল্লেখ করায় সংবাদের শিরোনামের সাথে সংবাদের অসাঞ্জস্যতা দেখা দেয়।এর ফলে এএইচ প্রফেশন থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।এই অসামঞ্জস্য সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী এসোসিয়েশন থেকে এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ নুরুল ইসলাম ও মহাসচিব ড. অসীত কুমার দাস স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ লিপি প্রকাশ করা হয়।

উক্ত প্রতিবাদ লিপিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে ভেটেরিনারি সেক্টর বলে কিছু নেই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর হলো ডিপার্টমেন্ট অফ লাইভস্টক সার্ভিস (ডিএলএস) এবং এই সেক্টর বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদের সকল কার্যাদি পরিচালনা করে থাকে। ডিএলএস এর অধীনে লাইভস্টক সেক্টরে কাজ করার জন্য ভেটেনারিয়ানরা এই পেশায় নিয়োজিত।বাহা থেকে প্রকাশিত প্রতিবাদ লিপিতে উক্ত সংবাদটি কে একটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক লেখনী হিসেবে আখ্যায়িত করে পাশাপাশি এটাও মনে করে উক্ত লেখনীর মাধ্যমে লাইভস্টক সেক্টরকে ভেটেরিনারি সেক্টর নামে চালিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
বাহা থেকে আরও জানানো হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনটির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভূমিকাটি খাটো করে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ এমিনেল হাজবেন্ড্রী এসোসিয়েশন থেকে ভবিষ্যতে এ‌ ধরণের বিভ্রান্তমূলক লেখা থেকে লেখককে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

এই সম্পর্কে বাংলাদেশ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী স্টুডেন্টস' এসোসিয়েশন এর সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান নাইম বলেন, "বাংলাদেশে ভেটেরিনারি সেক্টর বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশ লাইভস্টোক সেক্টর ভেটেরিনারি গ্রাজুয়েট, এনিমেল হাজবেন্ড্রী গ্রাজুয়েট সহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেক গ্রাজুয়েট প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।যার অবদান স্বরূপ ৮১% প্রাণিজ আমিষ আসছে লাইভস্টোক সেক্টর থেকে। অভিনন্দন জানাচ্ছি সকল লাইভস্টোক সৈনিকদের পাশাপাশি লাইভস্টোক সেক্টরের সকল খামারি ভাই-বোনদের। এই কৃতিত্ব পুরো লাইভস্টোক পরিবারের সংশ্লিষ্ট সকলের। এককভাবে ভেটেরিনারি সেক্টর বলে এইখানে ঢালাওভাবে কৃতিত্ব দেওয়ার যে অপ-প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এতে করে লাইভস্টোকের সাথে জড়িত অন্যান্য সৈনিকদের শ্রম,মেধা ও লাইভস্টোকের প্রতি ভালবাসাকে খাটো করা হচ্ছে, প্রশ্নবিদ্ধ করছে লাইভস্টোক সেক্টরকে। এইরকম হীনমন্যতা সম্পন্ন কাজের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।"