ডাঃ আসিফ ওয়াহিদ: করোনাকালেই ঝুঁকি নিয়ে যোগ দিলেন চাকরীতে

  • 23 May
  • 10:16 PM

সাব্বির হাসান রাব্বি, রমেক প্রতিনিধি 23 May, 20

করোনাকালে ফ্রন্টলাইনে থেকে যারা দেশের জন্য কাজ করছেন তাদের মধ্যে ডাঃ আসিফ ওয়াহিদ একজন। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বর্ধন বাড়ী গ্রামে তাঁর জন্ম ও শৈশবের বেড়ে ওঠা।তাঁর পিতা মোঃ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার এবং মাতা জেবুন নাহার বেগম।

প্রত্যান্ত গ্রামের আট-দশ ছেলে-মেয়ের মতোই তার ছেলেবেলা কেটেছে।তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। যার সুবাদে স্কুল-কলেজের প্রথম সারির ছাএ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন ও পাবলিক পরীক্ষা গুলোতে ভালো ফলাফল করেন। চট্টগ্রামের আল হাজ ইয়াকুব আলী স্কুলে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর বাবা মা গ্রামে থাকতো।তবে গ্রামের পড়াশোনার মান নিয়ে সন্দেহ থাকায় নানার সাথে পাড়ি জমান চট্টগ্রাম শহরে এবং সেখানেই চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে যান।
তারপর পঞ্চম শ্রেনীতে ভর্তি হন কুমিল্লা জিলা স্কুলে এবং সেখান থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি পাশ করেন ও এইচএসসিতে দেশ সেরা কলেজ নটরডেমে ভর্তি হন এবং ২০০৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন। তারপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ভর্তির সুযোগ পান জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগন্জে। সেখান থেকে তিনি ২০১৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন এবং ২০১৪ সালে ইন্টার্নি শেষ করেন। সেইসাথে তিনি একই মেডিকেল কলেজেই লেকচারার হিসেবে এনাটমিত বিভাগে যোগদান করেন। ৫ বছর সেখানে শিক্ষকতা করেন।

এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএস ইউরোলজি কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান। ৩০ মার্চ,২০২০ সালে ৩৯ তম বিশেষ বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং সরকারী চাকুরী জীবনের প্রথম কর্মস্থল হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে। বর্তমানে যেখানে তিনি অসংখ্য সন্দেহজনক করোনা রোগীর প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।ডাঃ আসিফের মতো সাহসী তরুণ চিকিৎসকরাইতো বর্তমানের সুপারহিরো।

ডাঃ আসিফ ওয়াহিদ বলেন, "মানব সেবা করার মহান ব্রতী নিয়েই চিকিৎসা পেশায় আসা। তাই সেবা করতে কখনোই পিছুপা হবোনা। আমৃত্যু দেশের মানুষের ও দেশের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই।"