শিক্ষার্থীদের দাবিকে অগ্রাহ্য করেই টিএসসিতে রূপালী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু

  • 05 Oct
  • 07:24 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি 05 Oct, 20

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) দ্বিতীয় তলায় রুপালী ব্যাংকের শাখা যেন স্থানান্তর না করা হয় এটা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো।এর আগে গত বছরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে টিএসসিতে ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও করোনায় বন্ধ ক্যাম্পাসে পুনরায় ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরের অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাখা স্থানান্তরের ব্যাপারটি শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে।গত শনিবার (৩রা অক্টোবর) বেলা ১২ টায় টিএসসির সামনেই ব্যাংকের শাখা অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে হাবিপ্রবির ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন রবিবার(৪ঠা অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।তিন দফা প্রস্তাবের মধ্যে 'IQAC শাখার অফিস আগামী বছরের জুনের মধ্যে স্থানান্তর করে শিক্ষার্থীদের জন্য দেয়া উন্মুক্ত করে দেবার পাশাপাশি নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষার্থী কর্ণার এমনকি প্রয়োজনে টিএসসি সম্প্রসারণ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও প্রশাসনকে পাল্টা দাবী উত্থাপন করা হয়।এ বিষয়ে মারুফ হাসান বলেন, 'গতকাল ( রবিবার) দুপুর ১২ টায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাডভাইজার প্যানেল ও প্রক্টরিয়াল বডির সাথে টিএসসিতে ব্যাংক স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে একটি আলোচনা সভায় বসি। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ৩ টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে আমরা প্রশাসনকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে বেশ কিছু দাবী উত্থাপন করি। তন্মধ্যে প্রথমত রুপালি ব্যাংক হাবিপ্রবি শাখাকে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ১টি বড় বাস ও ১টি মাইক্রো দিতে হবে। পাশাপাশি টিএসসির ৪র্থ ও ৫ম তলাকে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত করে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে টিএসসিতে লিফটের ব্যবস্থা করে দিতে হবে অতিদ্রুত সময়ের মাঝেই। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখার দাবী রাখা হয়। তবে এখনো সেই আলোচনা সভা কিছুটা অমিমাংসিত রয়েছে'।

কিন্তু এই প্রস্তাবের সুরাহা না করেই রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই।

এ ব্যাপারে রুপালি ব্যাংকের দিনাজপুর জোনের ডিজিএম এবং জোনাল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড.মো.ইমরান পারভেজের সাথে যোগাযোগ করে হলে তিনি জানান,আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি।তাদের দাবিগুলোর মধ্যে বেশ কিছু দাবি যেহেতু ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে তাই দ্রুত ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে খুব শীগ্রই বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে'।

অন্যদিকে আন্দোলনকারত ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন,
'দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তারা ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজগুলোতে কোন প্রকার বাধা দিবে না। তবে ব্যাংক উদ্বোধনের পূর্বে যদি শিক্ষার্থীবান্ধব এই দাবি গুলো মেনে নেওয়া না হয় তবে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে'।