টিউশনির টাকায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাঈদের ত্রান সহায়তা

  • 07 Apr
  • 07:55 AM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: 07 Apr, 20

করোনা প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।বিশেষ করে দিন মজুর অসহায় মানুষের কষ্টের যেন শেষ নেই।আর এইসব অসহায় মানুষদের কষ্ট লাঘব করতেই দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মোঃ সাঈদ হাসান নিজের টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদ হাসানের বাসা দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।

পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছিলেন সাঈদ।মূলত টিউশনির জমানো অর্থ দিয়েই নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন তিনি।করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্পাস বন্ধ হবার জন্য বাসা যেতে বাধ্য হলে টিউশনি অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি সাঈদের পক্ষে।কিন্তু গত ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন পেয়ে সাঈদ হাসান অসহায় দূস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।এজন্য ফেব্রুয়ারি মাসের এবং পূর্বের জমানো টিউশনির অর্থ সহযোগে তার মায়ের সহযোগিতায় এলাকার দিন এনে দিনে খাওয়া ৪০ টি ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিনাজপুরের বিরল শহরের বিভিন্ন স্থানে সে চাল,ডাল,তেল,লবণ,সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি প্যাকেটজাত করে ত্রাণ বিতরণ করেন।

সকাল ১১ টা থেকে শুরু হয়ে এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয় দুপুর দু'টায়।এসময় বিরল শহড়ের লাইন পাড়া, হাসপাতাল পাড়া, জুলফিডাংগা,হিন্দুপাড়া,কলেজ পাড়াসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থানে এসব হত দরিদ্র রিক্সাচালক,দিনমজুর এবং অসহায়-দুস্থ মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।মর্জিনা বেগম নামের একজন ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এমন কার্যক্রমে আনন্দিত হয়ে বলেন, কোথাও কাজ নাই যে কাজ করে টাকা পাব এমন পরিস্থিতিতে তাদের জীবন চালানো দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

এসময় সাঈদ হাসান সকলকেই যার যার অবস্থানে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসলে শিক্ষার্থীরা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে।আমার মত অনেকেই টিউশনি করিয়ে থাকে।তারাও যদি এভাবে এগিয়ে আসে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা অনেকাংশই সহজ হবে।টাকা দিয়ে না হলেও আশেপাশের মানুষদের সচেতন করতেই পারে। এভাবেই করোনা মোকাবেলায় শিক্ষার্থীরাও অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।