জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ

  • 11 Aug
  • 09:20 PM

প্রতিমা, পবিপ্রবি 11 Aug, 21

কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের সাধারণত ২০-৩০ বছরের বেশি সময়ের আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থার গড়পড়তাকে জলবায়ু বলা হয়। জলবায়ু কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা এর কতিপয় নিয়ামক যেমনঃ অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক,বনভূমি, বৃষ্টিপাত, ভূমির ঢাল ইত্যাদি দ্বারা নির্ণীত হয়।

বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। প্রাকৃতিক কারণ ব্যতীত মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের দিকটি সুস্পষ্ট। প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। সেখানে গড়ে উঠছে ঘনবসতি, কলকারখানা। ফলশ্রুতিতে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমছে, বাড়ছে কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। অধিক হারে গাছ কাটার ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে ভূপৃষ্ঠের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণ ছাড়াও শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, নদীভরাট, অধিক হারে প্রাকৃতিক সম্পদ খনন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ইত্যাদির নেতিবাচক প্রভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশের জলবায়ু।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি হচ্ছে , মাটির লবনাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, বারবার ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের দেশ।আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ-এর ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (CRI) অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই সমীক্ষা চালানো হয় ১৯৯০ থেকে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ১৯৩টি দেশের উপর। উল্লেখ্য, উক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত ২০০৭ এবং ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে "বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা ২০০৯" চূড়ান্ত করা হয়। যা উন্নয়নশীল দেশ গুলোর মধ্যে প্রথম গৃহীত পদক্ষেপ। উক্ত পরিকল্পনার কর্মসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার নিজ অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন স্ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে।
কেবল সরকারি পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপই নয়, আমাদেরও সোচ্চার হতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে।