কয়রায় মুজিববর্ষের গৃহে অনিয়ম, সার্ভেয়ার রাকিবের পোষা জলদস্যুদের তাণ্ডব

  • 29 Mar
  • 02:22 PM

কয়রা প্রতিনিধি 29 Mar, 21

খুলনার কয়রা উপজেলার ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার জনাব রাকিব অর্থের বিনিময়ে মুজিব শতবর্ষের "ক" শ্রেণির গৃহ তালিকায় অনিয়ম সহ প্রতি দলিল পত্রে সহস্রাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার পোষা জলদস্যু সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে আতঙ্কিত কয়রার জলমহাল নিকটস্থ সাধারণ জনগণ।

কয়রা উপজেলার ভুমি অফিসের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারীতা, অর্থ বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। জনাব রাকিব অর্থের বিনিময়ে মুজিব শতবর্ষের গৃহহীন ও ভুমিহীন "ক" শ্রেণির গৃহের ১১০জনের অবৈধ তালিকা প্রণয়ন করেন। তার অবৈধ তালিকা বাস্তবায়ন করতে ছলচাতুরী, ভুল বুঝিয়ে সাবেক কয়রা উপজেলার ভুমি কমিশনার নূরে আল সিদ্দিকের স্বাক্ষর নিয়ে ওপর মহলে পাঠান। পরে গোয়েন্দা সংস্থা সহ সরকারের বিশেষ টিমের নজরদারিতে মুজিব শতবর্ষ গৃহ তালিকা গ্রহণযোগ্যতা হারায়। বদলি করা হয় এসিল্যান্ড নূরে আলম সিদ্দিকিকে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে সার্ভেয়ার রাকিব। তিনি আজও কয়রা উপজেলায় জলমহাল, হাটবাজার, খাস জমি নিজের পোষা জলদস্যু সন্ত্রাসীদের বছরের পর বছর ইজারা দিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় মগ্ন।

গোপন সূত্র মতে, সম্প্রতি জনাব রাকিবকে যে ব্যক্তি যত বেশি অর্থ দিয়ে খুশি করতে পারবে। তারই নামে ঘর নির্মাণের প্রত্যয়ন, হাট-বাজার, খাল ইজারা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে ইউএনও জনাব অনিমেষ বিশ্বাস (ভারপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড) ব্যস্ত থাকায় তাকেও ম্যানেজ করতে অসুবিধা হয়নি রাকিবের। এদিকে মুজিব শতবর্ষে প্রদেয় ৫০টি গৃহের ২ শতাংশ জমি দলিল করে দেওয়ার নামে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সার্ভেয়ার রাকিব। প্রতি দলিলের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে হবে এমনটাও জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া শুধু মুজিব শতবর্ষ গৃহে দলিল-মালিকানা পত্র নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি থেমে থাকেনি। কয়রা উপজেলার সম্মুখ শ্রেণির জলদস্যু এবং সন্ত্রাসীদের নামে সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ার ব্যবস্থাও তিনি করেছেন। তাদের অধীনে অর্থ-যুগের বেশি জলমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। জনাব রাকিবের ছত্রছায়ায় ওই সকল জলদস্যুরা কয়রা উপজেলায় দিনের পর দিন জলমহালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সেই জলদস্যু সন্ত্রাসীদের বিপক্ষে কেউ অবস্থান করলে কিংবা সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে জানালে সার্ভেয়ার জনাব রাকিব ইউএনও-কে যথেচ্ছা বুঝিয়ে সেটা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ওই সকল জলদস্যু বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে হুমকি দেওয়া সহ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে সার্ভেয়ার রাকিব।

সার্ভেয়ার রাকিব এতোটা কৌশলী, তিনি ওপরের বসকে সহজে টাকা-পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে নিতে পারে। কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে শতাধিক সরকারি খাল রয়েছে। অথচ এই সকল খালের ইজারাদাররা খাল নিয়ে টেন্ডারবাজী সহ চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে খালের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। যে অর্থের সিংহভাগই পান সার্ভেয়ার জনাব রাকিব।

সম্প্রতি মুজিব শতবর্ষে ৫০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। যার অধিকাংশ ঘরই ব্যক্তি মালিকানাধীন করা হয়েছে। প্রভাবশালীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে খাস জমি দেখানো হলেও মুজিব শতবর্ষ গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে ব্যক্তিগত রেকর্ডীয় জমিতে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য এসকল গৃহ নির্মাণের বারবারই নির্দেশ দিয়েছেন। আবার গৃহ নির্মাণ শেষে জমির দলিল পত্র দেওয়ার নামে এখন অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে সার্ভেয়ার জনাব রাকিব বলেন, সরকারের বরাদ্দ না থাকায় মুজিব শতবর্ষ গৃহের দলিল তৈরিতে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া গৃহ নির্মাণের প্রত্যয়ন ওপরে মহলের নির্দেশে দেওয়া হচ্ছে। জলমহালের জলদস্যুদের সম্পর্কে কথা বলতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।