জবি শিক্ষার্থী তিথি সরকারের বিচার শুরু

  • 04 Nov
  • 06:09 PM

জবি প্রতিনিধি 04 Nov, 21

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তিথি সরকারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। পাশাপাশি তিথির স্বামী শিপলু মল্লিকের বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো অভিযোগ না পেয়ে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আগামি ১৮ নভেম্বর তিথি সরকারের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেছে আদালত।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন তিথি এবং তার স্বামীর পক্ষে তাদের আইনজীবী অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের পক্ষে প্রার্থণা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিপলু মল্লিককে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়ে তিথি সরকারের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের আদেশ দেন।

চার্জগঠনের সময় তিথি সরকারকে অভিযোগ পড়ে শোনালে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান।

গত ৩১ অক্টোবর সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম দেখতে পায়, সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের চারতলা থেকে তিথি সরকারকে ‘হাত পা-বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে’ বলে একটি মিথ্যা পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়। এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে সিআইডিতে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গুজব রটনাকারী নিরঞ্জন বড়াল নামের একজনকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরঞ্জনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২ নভেম্বর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়।

গত ১৯ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান, তিথি সরকার এবং তার স্বামীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় পল্লবীর নিজ বাসা থেকে থানার উদ্দেশে তিনি বের হয়েছিলেন তিথি সরকার। এরপর ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ফেসবুকে ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করে আসছিলেন তিথি সরকার। পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তিথি সরকারের বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছর ২৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তিথি সরকারকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপর তার পরিবার থেকে অভিযোগ আসে তিথি নিখোঁজ।