বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের কবলে হাবিপ্রবির এক মেয়ে শিক্ষার্থী

  • 25 Apr
  • 02:05 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি 25 Apr, 21

বন্ধুদের সাথে ইফতার শেষে মেসে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক মেয়ে শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাবলীপুর এলাকার পূর্ব দিকের সড়কে সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ছিনতাইয়ের শিকার ১৫ ব্যাচের কৃষি অনুষদের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রুবাইয়া শিমু জানান, ঐ দিন (২২ এপ্রিল) আমাদের ১৫ ব্যাচের কৃষি অনুষদের বন্ধু-বান্ধবদের
নিয়ে একটি ইফতার মাহফিল ছিলো। ইফতার মাহফিল শেষে আমি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাবলীপুর এলাকার সড়ক হয়ে মেসে ফিরছিলাম। ঐ সময় রাস্তা একদম ফাঁকা ছিলো। আমি যেই রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম তার মাত্র কয়েক ফিট দূরেই মধ্যম গড়নের কোঁকড়ানো চুল এবং মাস্ক পরিহিত একটি ছেলে দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি যখন ঠিক তার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম, আমার হাতের বাম পাশে দাঁড়ানো ঐ ছেলেটা আমার কাঁধে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েই রাস্তার পাশের লিচু বাগানে লুকিয়ে পড়ে। এ সময় আমি চিৎকার করতে থাকলে আশেপাশে থাকা এলাকাবাসী এবং কিছু শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীর পিছু নিলেও পরে তাকে আর খুঁজে পায়নি। আমার হাতে থাকা ঐ ব্যাগে টেকনো ক্যামন ফিফটিন মডেলের ১৬ হাজার টাকা দামের একটি এন্ড্রয়েড ফোন ছিল। এছাড়াও ব্যাগে ভোটার আইডি কার্ড এবং কিছু টাকাসহ একটি পার্টসও ছিলো।

ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ক্যাম্পাস এবং হল বন্ধ থাকলেও থিসিসের কাজে এবং চাকুরির প্রস্তুতির জন্য মেস ভাড়া নিয়ে আমাদের এখানেই থাকতে হয়। কিন্তু সেদিনের ঐ ঘটনার পর থেকে আমি ভয়ে ভয়ে ঐ রাস্তায় চলাফেরা করছি এবং নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছি। সব সময় মনে হয় কেউ যেন পেছন থেকে আমাকে অনুসরণ করছে। ঐ ঘটনার পরের দিন শুক্রবার থানায় একটি জিডিও করেছি। আমি চাই দোষীর উপযুক্ত বিচার হোক।

এদিকে ঐ ঘটনার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ ব্যাচের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম শিহাব বলেন, ছিনতাইয়ের শিকার হবার পর শিমু (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) আমাদের জানালে আমরা কয়েকজন বন্ধুসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। কিন্তুু ততক্ষণে ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। এরপর সন্দেহভাজন স্থানীয় তিনজন ছেলেকে দেখালে শিমু তাদের শনাক্ত করতে পারেনি।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. খালিদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রমজান মাস এবং লকডাউনে ক্যাম্পাসের আশে পাশের এলাকা প্রায় ফাঁকা। এই সুযোগেই হয়তো দুষ্কৃতকারীরা এমন ঘটনা ঘটনোর সুযোগ পেয়েছে। যদি এসব অপরাধী কখনো আমাদের নজরে চলে আসে, তাহলে অবশ্যই স্থানীয় সরকার-প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।