খুসখুসে কাশি থেকে সহজ মুক্তিঃ আমাদের করণীয়

  • 13 Mar
  • 07:24 PM

আব্দুল্লাহ আল-নোমান, চিকিৎসক 13 Mar, 20

আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে আমাদের নানান ধরণের শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়। অধিকাংশ মানুষই এই সময়টাতে শ্বাস নালী বা ফুসফুসের সমস্যায় ভোগেন। এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো খুসখুসে কাশি। এটাকে আমরা ড্রাই কফ বা শুকনা কাশি বলে থাকি। খুবই বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক একটি ব্যাপার।

সাধারণত শরীরে কোন জ্বর থাকে না, কাশির সঙ্গে কখনো কফ বের হয় না আবার বুকের ভিতরে কোন শব্দও হয় না। কারণে অকারণে কিছুক্ষণ পর পর গলায় অস্বস্তিকর অনুভূতি সৃষ্টি হয় যা যখন তখন এই খুসখুসে কাশির উদ্বেগ করে। কফ ভ্যারিয়েন্ট অ্যাজমা হলে সাধারণত একটানা দীর্ঘদিন কাশি থাকে এবং বুকে কোনো ধরনের শব্দও পাওয়া যায় না। ঋতুবদলের সময় ভাইরাস সংক্রমণের কারণেই সাধারণত কাশির প্রকোপ বাড়ে। সব সময় কাশি সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য ঔষধের প্রয়োজন নাই। কারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত বুকে স্টেথোসস্কোপ দিয়ে বা বুকের এক্স-রে করেও কিছু পাওয়া যায় না।



অনেক সময় রাতে বা কথা বলার সময় কাশি বেড়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই খুস খুসে শুকনো কাশির কারণ ফুসফুসের সংক্রমণ, হার্ট ফেইলর, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা বা ক্যান্সার নয় বরং আমাদের চারপাশের কিছু পারিপার্শ্বিকতা যেমন- ঘরের ধুলাবালি, কুয়াশা ও ধোঁয়া, ফুলের রেণু, কয়েলের ধোঁয়া ও আবহাওয়া পরিবর্তন এর ফলে হতে পারে। তবে হাঁপানি বা অ্যাজমা, শ্বাসতন্ত্রে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ, নাকের পিছন দিয়ে সর্দি ঝরা(পোস্ট ন্যাজাল ড্রিপ), বিভিন্ন রকমের ঔষধ সেবন, হুপিং কফ, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ও অতিরিক্ত ধূমপান ইত্যাদি কারণে খুসখুসে কাশি হয়ে থাকে। সঠিক কারণটি বুঝতে হলে দরকার কাশির সাথে অন্য লক্ষ খেয়াল করা।

খুসখুসে কাশি থেকে মুক্তির জন্য যা করবেনঃ-

ক.অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন। প্রতিবার হালকা কুসুম গরম পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

খ.বাসস্থান শুষ্ক ও পর্যাপ্ত সূর্যের আলো-বাতাস চলাচল সম্পন্ন হওয়া উচিত।

গ. খুসখুসে কাশির সমস্যা দেখা দিলে ধূমপান ত্যাগ করুন। ধূমপান করলে কাশি বেড়ে যাবে এবং অন্যান্য জটিল সমস্যার তৈরি হবে। তাই অধূমপায়ীরা ধূমপায়ীদেরকে এড়িয়ে চলুন।

ঘ. কাশিতে আদা খুবই উপকারী তাই দুধ চা না খেয়ে বার বার আদা চা খান। সাথে লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনি মিশিয়ে খেতে পারেন। আদা চা পান করলে কাশি থেকে উপশম পাবেন।

ঙ. এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ ছড়িয়ে দিন। এই লবণ মেশানো পানি দিয়ে বারবার গড়গড়া করুন।

চ. প্রতিদিন রাতের বেলায় মাত্র এক চামচ মধু কাশি কমাতে সহায়ক হতে পারে। মধু গলা আর্দ্র রাখে এবং মধুতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা কাশি কমাতে সহায়ক।

ছ. ধুলাবালির কারণে কাশি হলে ঘর ঝাড়ু, ঝুল ঝাড়া, ঘরে মশার ঔষধ কিংবা এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে, কয়েলের ধোঁয়া ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন এবং ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করুন।

জ. এ সময় ফ্রিজের কোমল পানীয়, আইসক্রীম, ফ্রিজে রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।

নিয়ন্ত্রীত জীবনযাপন ও সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বেশি ভাগ ক্ষেত্রেই এসব কাশির চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না তবে কাশি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কিংবা কাশির সাথে জ্বর বা অন্য কোন উপসর্গ থাকলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ এটা হতে পারে অন্য কোন রোগের লক্ষণ যা হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন না।