টিউশনি বন্ধ, খুবি শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সংকট

  • 15 July
  • 09:19 AM

ইমন কাজী, খুবি প্রতিনিধি 15 July, 20

"আমার পরিবারে আমি একাই উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলাম। চারটি টিউশনি করিয়ে নিজের এবং ছোটবোনদের খরচ চালাতাম৷ কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে মার্চ মাস থেকে টিউশনি বন্ধ থাকায় তিনটি টিউশনি ইতোমধ্যে চলে গেছে বাকিটাও যাই যাই অবস্থা। যা আমার পরিবারে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে"।
নিজের দুর্ভোগ এর কথা এমনটাই জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আল মামুন।

এমন দূর্ভোগ শুধু মামুনের নয়, খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই টিউশনি করিয়ে তাদের বাসা ভাড়ার খরচ এবং অন্যান্য খরচ নিজেই চালাতেন। কিন্তু তারা এখন অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী হারুন অর রশীদ বলেন, "টিউশনি করিয়ে আমি নিজের খরচ নিজে চালাতাম। কিন্তু অনেকদিন বাড়িতে বসে থাকায় এবং টিউশনি না করাতে পেরে এখন নিজের কাছেই নিজের খারাপ লাগছে৷ আর মানুষের ভিতর থেকে করোনার আতঙ্ক কমতে শুরু করেছে তাই টিউশনি চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে"।

অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে টিউশনি চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও রয়েছে নানা জটিলতা।
এমনই একজন ফিজিক্স ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুস সাদাত। তিনি বলেন, 'মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন ক্লাসে অভ্যস্ত না। তাই টিউশনি করাতে যেয়ে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অন্যদিকে টিউশনির বেতন সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছেনা। তাছাড়া ইন্টারনেটের খরচ আর বেতনের টাকা বাচানোর জন্য অভিভাবকদের কাছে অনলাইন টিউশনির চেয়ে ইউটিউবে ফ্রি ক্লাস বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে টিউশনি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে'।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর মত পাঁচটি আবাসিক হল সহ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।