কয়রায় ১২কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

  • 31 July
  • 04:32 PM

মোঃ ইকবাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি 31 July, 21

খুলনার কয়রা উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুইটি পোল্ডারে বাঁধ মেরামতে চলমান প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন ভেকু মেশিনের মাধ্যমে বেড়িবাঁধের মূল স্লোভের মাটি কেটে  গর্ত সৃষ্টি করেছে । কাজের শুরুতেই এমন অনিয়মে প্রকল্পের স্থায়ীত্ব নিয়ে ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বেড়িবাঁধের মূল স্লোভের মাটি কেটে গর্ত করায় অতিবৃষ্টি কিংবা প্রবল জোয়ারে ঐ বাঁধ ধসে যেতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে পাউবোর তত্ত্বাবধানে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে তিনটা প্যাকেজে উপজেলার ঘড়ি লাল বাজার, চরামুখা, মেদেরচর  শাকবাড়িয়া সহ  নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি টাকা বরাদ্ধে বারোটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে ১৪/১ নং পোল্ডারে শাকবাড়িয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদের বাম তীর রক্ষা প্রকল্পটি ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের ১ কোটি ৭৩ লক্ষ্য টাকা বরাদ্দের ২৭ শতাংশ কম চুক্তি মূল্যে কাজটি পায় এস অনন্ত কুমার বিকাশ ত্রীপুরা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের শুরুতেই ঠিকাদারের লোকজন ভেকু মেশিনের মাধ্যমে বেড়িবাঁধের মূল স্লোভের মাটি কেটে গর্ত সৃষ্টি করেছে। যে কারণে অতিবৃষ্টি কিংবা সাধারণ জোয়ারে ওই বাধ ধসে যেতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বাঁধের স্লোভ কাটতে নিষেধ করলেও তারা মানছে না, নির্বিঘ্নে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে প্রকল্পের রিভার সাইডের মূল স্লোভের স্থায়ী মাটি কেটে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি করেছে। প্রকল্পটিতে গতকাল শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় বাঁধের পাশেই গর্ত করে মূল স্লোভের মাটি কাটায় সামান্য বৃষ্টিতেই সদ্য দেওয়া মাটি গর্তে ধসে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধকি এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বাঁধের একেবারে কাছে থেকে মাটি কেটে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। শুরুতেই এমন অনিয়ম হলে শেষ পর্যন্ত আমরা এই বেঁড়িবাধ দিয়ে সুফল পাবো কিনা জানি না,এমন ভাবে কাজ করতে থাকলে এ বাঁধ বেশি দিন টিকবে না।

স্লোভ কাটার কথা শিকার করে ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান বলেন, কাজটি মুল ঠিকাদারের   নিকট থেকে আক্কাজ ভাই সাব কন্ট্রাক নিয়াছে আমি তার হয়ে কাজটি দেখা শোনা করছি মিজানুর রহমান আরো বলেন ওখানকার মাটি খুবই নরম স্লোভ না কাটলে ভেকু গাড়ি চালানো যাচ্ছে না, পরে বালু দিয়ে গর্ত গুলো ভরাট করে দেওয়া হবে। স্লোভ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে কাজের ঠিকাদার জাকির হোসেন মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ভুলবশত যদি স্লোভ কাটা পড়ে থাকে পরে সেগুলো ভরাট করে দেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুর রহমান বলেন,জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জাইকার তত্বাবধানে প্রকল্পগুলি দেখভাল করা হচ্ছে। কাজের কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন প্রকৃতিক দুর্যোগ থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে আমার অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তাছাড়া দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের  সাথে একাধীকবার আলোচনা করে প্রকল্পগুলো আনতে হয়। কিছু অসাধু ঠিকাদার সরকারের এই অর্জনকে বাঁধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করলে যেকোন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।