কয়রায় বিনা টেন্ডারে সাড়ে ৮ কোটি টাকার পাউবোর বাঁধের কাজ, কাজের মানে অভিযোগ

  • 15 Nov
  • 02:24 PM

মোঃ ইকবাল হোসেন, খুলনা (কয়রা) 15 Nov, 20

খুলনার কয়রা উপজেলায় জরুরি কাজের নামে টেন্ডার (দরপত্র) ছাড়াই সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামত কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২ এর আওতায় এ কাজে অদক্ষদের নিয়োগ করা হয়েছে। এতে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পাউবো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। একদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত না হওয়ায় একটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে ধসে যাওয়া বাঁধ মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়রা উপজেলার ১৪/১ ও ১৩-১৪/২ নম্বর পোল্ডারে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ৩২টি স্থানে সংস্কার বা মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। যার মোট দৈর্ঘ্য সাড়ে ৮ কিলোমিটারের বেশি। এসব কাজ ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ডিপিএম পদ্ধতির কাজের স্থানে জনঅবহিতকরণ সাইনবোর্ড না থাকায় স্থানীয় মানুষ কাজ সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাচ্ছে না। ফলে যেনতেনভাবে এসব কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় ছোটখাটো দুর্যোগে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দীন বলেন, "সরকার উপকূলবাসীকে দুর্যোগ-দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে যথেষ্ট বরাদ্দ দিয়েছে এবং দিচ্ছে। তবে এসব বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার না হওয়ায়, প্রতি বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।"

পাউবোর স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মশিউল আবেদীন এসব অভিযোগকে গতানুগতিক দাবি করে বলেছেন, "সঠিক প্রক্রিয়া মেনে কাজ করতে গেলে সময়ক্ষেপণ হয় এবং বড় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এ পদ্ধতিতে কাজ করা হয়।"

পাউবোর চলমান কাজের স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দরপত্র ছাড়া অদক্ষ লোক দিয়ে এসব কাজ করানোয় বেশিরভাগ কাজ দায়সারা গোছের হয়েছে। অনেক স্থানে বাঁধের ঢাল কেটে উঁচু করা হয়েছে। তাছাড়া মাটির কাজে সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করায় অনেক স্থানে সংস্কার কাজের পরপরই ধসে যেতে দেখা গেছে।

ভাঙনপ্রবন দক্ষিণ বেদকাশির মেদেরচর ও চরামুখা এলাকার তিনটি স্থানে কাজ করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাফ্‌ফর হোসেন। তিনি বলেন, ''পাউবোর লোকজনের মৌখিক নির্দেশে কাজ করছি। কার্যাদেশ, প্রাক্কলন অথবা অন্য কোনো কাগজপত্র আমাকে দেওয়া হয়নি। এ জন্য কোনো কাজে কত বরাদ্দ আমরা জানতে পারি না। কাজ শেষে মাপজোখ করে 'বেলমক্তা' বিল দেওয়া হয়। এতে কোনো কাজে লাভ হয়, কোনো কাজে হয় না।"
একই কথা বলেছেন মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাবলু। তিনি দশহালিয়া এলাকার তিনটি স্থানে বাঁধের কাজ করছেন।

পাউবো সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, "ডিপিএম পদ্ধতির কাজ জরুরি ভিত্তিতে করা হয়ে থাকে। পরে কাজের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মেপে বিল করা হয়।" এ পদ্ধতিতে অদক্ষ ব্যক্তি ও সঠিক প্রাক্কলন অনুসরণ না করায় টেকসই বাঁধের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।