কয়রায় করোনা ভাইরাস ও চুরি ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের নানা উদ্যোগ

  • 20 Apr
  • 02:28 PM

মোঃ ইকবাল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি 20 Apr, 21

খুলনায় কয়রাতে কোভিড-১৯ করোনা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্বিতীয় ধাপে প্রতিরোধে ও লকডাউন যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করছে কয়রা থানা। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলাবাসীকে সচেতন করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে থানা পুলিশ।

কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হোসেনের নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রতিটি ইউনিয়নে ৪জন পুলিশ অফিসারের সমন্বয়ে বিট পুলিশিং চালু করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে দিনে ২জন অফিসার ফোর্স নিয়ে ডিউটি করবে এবং রাত্রে ২জন অফিসার ডিউটি করবে। এছাড়া ওসি রবিউল হোসেন প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যকে সভাপতি করে কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্য আনসার, দফাদার, গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে ১০-১২ জনের একটি কমিটি গঠন করেছে।

বিট পুলিশের অফিসারগণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহায়তা নিয়ে ওয়ার্ড কমিটিকে তদারকি করছেন। ওসি'র নেতৃত্বাধীন এ বিট পুলিশিং অফিসার ও ওয়াার্ড কমিটির সদস্যরা উপজেলার হাট-বাজার, ওলি-গলি সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে চলেছেন। যাতে কোন মানুষ কোথাও একত্রিত হয়ে কোন প্রকার গ্যাদারিং করতে না পারে। সামাজিক নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখেতে এ কমিটি ব্যাপক ভুমিকা রাখছে।এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে কয়রা সদর ও কয়রা সেতুতে ২টি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় ও সরকার ঘোষিত লকডাউন সঠিক ভাবে পালন করতে ওসির নেতৃত্বে বিট পুলিশিং গঠন, ওয়ার্ড কমিটি, মোবাইল টিম গঠন, সচেতনতা কর্মসূচী সহ নানা ধরনের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তাই তারা এইসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

উপজেলার সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল করোনার বিস্তার রোধে কয়রা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বলেন, "আমরা কয়রা থানাবাসী সৌভাগ্যবান জনাব রবিউল হোসেনের মত একজন বিচক্ষণ, সৎ, যোগ্য ও সচেতন পুলিশ অফিসার পেয়েছি।" তারা আরও বলেন, কয়রা থানা পুলিশ প্রশাসন আমাদের সচেতন করতে দিন-রাত যে পরিশ্রম করছেন, তা সত্যি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু কিছু মানুষ তারপরও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে লকডাউন ভঙ্গ করছে।

কয়রা বাজার বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আছাদুল ইসলাম জানান, "করোনা প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন সফল করতে কয়রা থানার পুলিশ করোনা প্রতিরোধ ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন রাখতে জন সচেতনতায় দিন-রাত প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গাতে লোক সমাগম বিরত রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এতো তোরজোর পূর্বে দেখি নাই। এটা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। মানুষকে করোনার বিস্তার সম্পর্কে সচেতন করতে আপ্রাণ চেষ্টা তাদের। এত কিছুর পরও আমরা যদি নিজেরাই সচেতন না হই, তাহলে আমরাই শেষ হয়ে যাবো।"

এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রবিউল হোসেন জানান, "পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আমরা সচেতনতার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারণা ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছি। বিট পুলিশিং কমিটির মাধ্যমে, ইউনিয়ন পরিষদ, আনসার ব্যাটালিয়ান ও গ্রাম পুলিশও এক যোগে জনসাধারণকে করোনা প্রতিরোধে নানা সচেতনতা মূলক কার্যক্রম মেনে চলতে উদ্ধুদ্ধ করছে। জনগণের স্বার্থেই করোনার প্রতিরোধ আমরা কাজ করছি। লকডাউন নিশ্চিত করতে মাঠে সব সময়পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে। যার যার অবস্থান থেকে সরকার ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী চলাফেরা করতে হবে। বৈশ্বিক মহামারী থেকে সকলকে মিলে দেশকে রক্ষা করতে হবে।"

করোনা প্রতিরোধে কয়রা থানাবাসীর সহযোগীতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, আতংকিত না হয়ে সকলকে নিজ বাসায় অবস্থান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় কড়া নজরদারী রয়েছে। গুজব ছড়াবেন না, এমনকি গুজবে কান দেবেন না। করোনা প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করুন।