ক্রান্তিলগ্নে নিজস্ব অর্থে ব্যাতিক্রমধর্মী রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ!

  • 08 May
  • 10:14 PM

রমেক প্রতিনিধি 08 May, 20

রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্টাফদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ। আর্থিকভাবে একটু অস্বচ্ছলদের ডাকে সাড়া দিয়ে ও চক্ষুলজ্জার কারণে কারো কাছে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের খুজে বের করে তাদের পাশে দাড়িয়েছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্র সংগঠনটি।

ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষার্থী/স্টাফদের কেউ যোগাযোগ করলেই তাদের নাম, পরিচয় শতভাগ গোপন রেখে বাসায় উপহার হিসেবে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছে রমেক ছাত্রলীগ। তাছাড়া যেখানে উপহার পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা সেখানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পৌছে যাচ্ছে নগদ অর্থ।

লাতিফুজ্জামান স্নিগ্ধ বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে "বাংলাদেশ ছাত্রলীগ" শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল। আমাদের কোনো ফান্ড ছিলনা তাই সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহৎ পরিসরে মানবিক কার্যক্রমটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি কিন্তু নিজেদের জমানো, টিউশন করে অর্জিত, বাবা মা এর কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের সাবেক কিছু বড়ভাই বোনের সহায়তায় আমাদের ক্যাম্পাসের অধ্য্যনরত ছোট ভাইবোন ও স্টাফদের পাশে দাড়াতে চেষ্টা করেছি। যতোদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততোদিন পর্যন্ত আমাদের ক্যাম্পাসের কোনো ছোট ভাইবোন/স্টাফ তাদের পরিবার নিয়ে অভুক্ত থাকবেনা - এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সংকল্পবদ্ধ। নিজেদের এই কার্যক্রমটি আমাদের দীর্ঘ ৪ বছর ৪ মাসের ক্যাম্পাস রাজনীতির শ্রেষ্ঠ অর্জন।

তারেক বলেন, ১৯৪৮ সালে জাতির জনকের হাতে গড়া ছাত্রলীগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ অবধি দেশের তরে লড়াই করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দূর্যোগ এসেছে এই দেশে কিন্তু বাঙালিরা থেমে থাকে নি। জননেত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এই সমৃদ্ধ বাংলার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক প্রিয় নেত্রী ও বাংলা ছাত্র সমাজের দুই নক্ষত্র জয় ভাই - লেখক ভাইয়ের নির্দেশে মানবিক ছাত্রলীগের একটি অংশ হিসেবে আমরা রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ কাজ করে যাচ্ছি এবং করবো ইনশাল্লাহ।

সিরাত: ক্ষুধা আর মানবতার এ যুদ্ধে আমরা রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সবসময় চেয়েছিলাম মানবতাকে জিতিয়ে দিতে। তারই ধারাবাহিকতায় আামাদের এই ব্যাতিক্রমধম্রী উদ্যোগ। আমি বিশ্বাস করি আমরা বেশ কিছু সহপাঠী ছোট ভাই বোনদের মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছি আর এটাই জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।

নিখাদ: আমার মাথায় বিষয়টা প্রথম আসে যে, মেডিকেল অনেক মেধাবী ছাএ-ছাএীরা পড়ে যাদের পরিবারের অবস্থা বেশি ভালো না,তাদের পরিবার মানে আমাদের পরিবার,তাই এই পরিবারের জন্য যদি কিছু করা যায়? বিষয়টা রমেক ছাএলীগের ৪৫ তম এমবিবিএস ও ৫ম বিডিএসের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি এবং সবার সম্মতিতে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে একটি ফান্ড গঠন করি যার মাধ্যমে আমরা সম্পুর্ন গোপনীয়তার মাধ্যমে এসব পরিবারের পাশে দাড়াতে সক্ষম হই।ভালোবাসার রমেকে এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।আমরা সর্বদা রমেকিয়ানদের যে কোন প্রয়োজনে পাশে আছি,থাকবো ইনশাআল্লাহ।

তানভীর রহমান প্রান্ত: আমাদের সাহায্য প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আশা আছে ঈদেও আমরা এদের পরিবারের কাছে আমাদের উপহার সামগ্রী পৌছে দেব।

সীমান্ত: র মে ক ছাত্রলীগ সর্বদাই চেষ্টা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ,ছাত্র ছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে। সাধারণ ছাত্র ছাত্রী ছাড়া তো ছাত্রলীগ অচল। আর দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের ছাত্রছাত্রী দের জন্য কিছুটা চেষ্টা করা আরকি;এইটা কোন ত্রান না, দান না। আর্থিক অবস্থা সবার সমান নয়; তাই নিজেদের সম্মিলিত উদ্যোগে আমাদের কাছের মানুষ দের,আমাদের ছাত্রছাত্রীদের যাতে কম্পক্ষে কিছু দিন খাওয়া দাওয়া নিয়ে না ভাবতে হয় ,তার ব্যবস্থা করলাম । ইনশাআল্লাহ আমাদের এই চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।