ক্যাম্পাস জীবনে রমজান

  • 18 Apr
  • 05:45 PM

মেহেদী হাসান 18 Apr, 21

করোনা মহামারীর জন্য প্রায় ১(এক) বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যখন পৃথিবীটা সুস্থ ছিল রমজান মাসটা ছিল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যরকম। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে আবাসিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়।সেই জন্য সকল শিক্ষার্থী ভর্তির সাথে সাথে পেয়ে যায় আসন।তাই হল জীবনের রোজাটা হয় একটু অন্যরকম।আর সেই অনুভূতিটা জানানোর চেষ্টা করেছে কতিপয় পবিপ্রবিয়ান।
সোহানুর রিয়াদঃ
করোনা প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে ক্যাম্পাসে নেই। অনেক স্মৃতিই তো ক্যাম্পাসকে ঘিরে। তবে রোজার সময়ের স্মৃতিগুলো একটু আলাদা।প্রায় পুরো রমজান মাস জুড়েই তো পরীক্ষা থাকত। ভোর রাতে সেহরিতে উঠে বন্ধুরা মিলে সেহরি খেতে যাওয়া আর রোজা রেখে ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া তখন অনেকটাই কষ্টের মনে হলেও এখন সেগুলোকেই অনেকটা মনে পড়ে। আর ইফতারের সময় সবাই মিলে সেন্ট্রাল মাঠে বসে ইফতার করা এটা অন্যরকম একটা অনুভুতি যা হয়ত বলে বুঝানো সম্ভব নয়। মনে পড়ে সেসব দিনগুলোকে।

সোনিয়াঃ

প্রথমত বলতে গেলে অনেক কষ্টেই আছি। জীবন থেকে একটা বছর চলে গেলো। তবে সুস্থ থাকতে পারাটাই অনেক। এই রমজান মাসে বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই আমার হলের নিজের রুমটাকে ও অনেক মনে পড়ছে। সেহরীতে সবাই মিলে সেহরী করে পরীক্ষায় বসা আর পরীক্ষা শেষে বড় আপু ছোট আপুরা মিলে ইফতারিতে যে একটা মায়াময় পরিবেশ তৈরি হতো সেটাকে তো অনেকটাই মনে পড়ে। পৃথিবীটা দ্রুত সুস্থ হলে আমরা আবার পুরনো দিনগুলো ফিরে পাবো।

রিফাতঃ

হ্যাঁ, অবশ্যই ক্যাম্পাস কে খুব মিস করি। সম্প্রতি এই লক ডাউনে ক্যাম্পাসের যে বিষয় টা মিস করতাছি তা হল এই রমজান।যদিও বাসায় মা বাবা ভাই বোন মিলে রমজানের আনন্দ টা উপভোগ করতেছি,কিন্তু হলের মানুষ গুলা আমার দ্বিতীয় পরিবার।সেহেরিতে হৈ-হুল্লোড় করে সবাই কে ডেকে তোলা,ডাইনিংএ একসাথে সেহেরি খাওয়া দাওয়া খুব মিস করি এখন। আর ইফতার এর সময় হলে,এক একদিন এক এক জায়গায় ইফাতার করা, এই যেমন- আজ রুমমেটদের, কাল বড় ভাইদের রুমে,আর এক দিন জুনিয়র দের নিয়া,অন্য দিন ফেকাল্টি বা রিজিউনের ভাই ব্রাদার,মানে আছেই কোন না কোন একটা ইফতার পার্টি।এইসব ইফতার পার্টি খুব মিস করতাছি। মিস করি পুরো ক্যাম্পাস কে।ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্রই ফিরে যাবো প্রিয় ক্যাম্পাসে।

দীপু সুলতানঃ

ক্যাম্পাসটা আসলে বড় মায়ার জায়গা।কখন যে আপন করে নেয় ক্যাম্পাস আর ক্যাম্পাসের মানুষগুলো বুঝেই পাওয়া যায় না। আর তার চাক্ষুস উদাহরণটাই পাওয়া যায় এই রমজান মাসে।সেহরীর সময় পাশের রুম অথবা ব্লকের সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে সেহরিতে যাওয়া, সেহরি করে রুমমেট দের সাথে একটু আড্ডা দেয়া সময়গুলো এখন অনেকটা মনে পড়ে যায়। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ইফতারের সময় হয়ত হলের ছাদে না হলে বড় ভাইদের রুমে অথবা শহীদ মিনারের পাশে মাঠে বসে সবাই মিলে ইফতার করার মাঝে যে একটা সৌন্দর্য আর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতো সেটা অন্যান্য মাসের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা। এইটাতে একটা আত্মতৃপ্তির বিষয় কাজ করত। দিনগুলোকে ভীষণভাবে আবার দ্রুত ফিরে চাই।