কোরবানিতে প্রাণি চামড়ার দাম ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

  • 25 July
  • 10:47 AM

পবিপ্রবি প্রতিনিধি 25 July, 20

কোরবানি পশুর চামড়ার দাম ও চামড়ার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে লিখেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স এন্ড এনিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ ফখরুজ্জামান-

বিগত কয়েক বছর ধরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বৃন্দ বিশেষ করে পশুপালন গ্র্যাজুয়েটদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে দেশীয় খামারিদের পালিত গরু, মহিষ, ছাগল-ভেড়ার কারণে কোরবানির সময় অন্য দেশের প্রাণির উপর নির্ভর করতে হচ্ছেনা। তদুপরি সারা বছর মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে দেশে উৎপাদিত প্রাণির মাধ্যমে। এর ফলে মাংস উৎপাদনে দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দুধ উৎপাদনেও লক্ষ্য মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা'র রূপকল্প-২০২১ এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশের ৮৫% নাগরিকের মানসম্পন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করণ। এই মানসম্পন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুপালন ও ডিভিএম গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এইবার আসি কোরবানি কালীন প্রাণির চামড়ার দাম প্রসঙ্গে। বিগত কয়েক ঈদ-উল-আযহায় প্রাণির চামড়ার দাম এতই কম ছিল যে, অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে চামড়া পুঁতে ফেলেছেন। বেশি দামে চামড়া বিক্রি করলে যে কোরবানি দাতার লাভ হতো বিষয়টা তা নয়। এই টাকা হলো গরীব ব্যক্তির হক। চামড়ার দাম কম হলেও দেশে কিন্তু চামড়াজাত পন্যের দাম অনেক বেশি। পক্ষান্তরে এই সময়ে চামড়ার দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারী কোম্পানির মালিকগণ ও সংগঠন আমরা একে অন্যের দোষারোপ করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরি। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমরা কখনও এর সুষ্ঠু সমাধান নিয়ে আলোচনা করিনা।

এই ব্যাপারে আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যদি গবাদিপ্রাণি উন্নয়নের পাশাপাশি চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণের বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসেন তাহলে শুধু কোরবানির সময় নয়, সারা বছর চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিশ্চিত হবে (প্রতি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অফিস থাকার কারণে ব্যাপারটি সহজ হবে)। সেই সাথে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পশুপালন ডিগ্রিসহ (পশুপালন গ্র্যাজুয়েট বৃন্দ চামড়া প্রক্রিয়াকরণ বিষয়টি পড়ে থাকেন) ডিভিএম ডিগ্রি ধারী গ্র্যাজুয়েট দের চাকুরীর ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য মাননীয় মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

-
ড. মোঃ ফখরুজ্জামান
সহযোগী অধ্যাপক
জেনেটিক্স এন্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগ
এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।