কোরবানিতে জেগে উঠুক মানবতা

  • 21 July
  • 06:24 AM

আব্দুল্লাহ আল মামুন 21 July, 20

শতাব্দীর ভিন্ন এক ইদ, এর আগে পৃথিবীর মানুষ এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়নি। এটাই প্রথম, এইতো সুযোগ ত্যাগের মহিমায় নিজেকে পবিত্র করার। এবারের কোরবানির ঈদটা আগেরকার তুলনায় ভিন্ন ঘরানার হতে যাচ্ছে। চারদিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদেরকে মুড়ে রেখেছে। করোনায় চাকরি হারা উদ্বাস্তু জনপদ। সম্প্রতি বন্যা কবলিত এলাকায় মানবেতর জীবন যাপনকারী ছিন্মমূল জনগোষ্ঠীর কষ্টের শেষ নেই।এবারের ইদকে সামনে রেখে আসুন আমরা সবাই নিজেকে নিবেদিত করি অসহায়ের পাশে দাড়িয়ে। চলুন আরেকবার অসহায়ের পাশে দাড়িয়ে তাদের মনে সাহস জাগিয়ে বলে উঠি, ”ওরে তোরা পাসনে ভয়”।

প্রত্যেক্যের উচিত হবে এবারে কোরবানিকে বেশি বেশি উৎসাহ দেয়া। অনেকেই আগে থেকেই ভাবছেন কিংবা অন্যকে পরামর্শ দিচ্ছেন কোরবানি না দিয়ে উদ্বাস্তু এবং দূর্যোগ কবলিত এলাকায় সেই টাকা বণ্টন করে দিতে।কিন্তু না, আপনারা যদি চিন্তা করে দেখেন তাহলে টাকা বিলির চেয়ে হাজারগুন বেশি উপকার করতে পারেন এসকল অসহায় মানুষকে। এবারের কোরবানি মানে হচ্ছে দুইটি ভালো কাজ করা, প্রথমত আপনি আপনার ওয়াজিব আদায় করার সওয়াব পাবেন দ্বিতীয়ত একটি অসহায় পরিবারকে সাহায্য করার সওয়াব।

বন্যাদুর্গত এলাকায় খোঁজ নিলে দেখা যাবে অধিকাংশ বাড়িতে গবাদিপশু আছে।পশুগুলোকে না পারছে তারা আশ্রয় দিতে আর না পারছে খাদ্যের যোগান দিতে। এবং এগুলোকে তারা যে বিক্রি করবে সেই পরিস্থিতিটাও তাদের অনুকূলে নেই। এদের সহায় সম্বল বলতে দুই একটি গবাদিপশু। এই পরিস্থিতিতে যখন তারা তাদের সহায় সম্বল হারাতে বসেছে তখন তাদের পশু ক্রয় করে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে দিলে আপনার মতো মহৎ মানুষ সত্যিই বিরল।
অন্যদিকে তাকিয়ে দেখুন অনেকেই আছেন করোনাকালীন সময়ে চাকরীচ্যুত হয়ে শহর ছেড়ে পরিবারপরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামে। এসকল মধ্যবিত্ত সমাজ না পারছে কারো কাছে হাত পাততে না পারছে কাওকে কিছু বলতে।এবারের কোরবানির গোস্তটাও না হয় শ্রেফ উপহার হিসেবে তাদের ঘরে পৌঁছে দিলেন।এছাড়াও অনেক পরিবার আছে যারা বছরে মাত্র একবার গোস্ত খেতে পারে, তাদেরকেও না হয় দুবেলা কোরবানির গোস্তের ব্যবস্থা করে দিলেন। সমাজের এই শ্রেণির মানুষগুলো কারো কাছে হাত পাতে না, আত্নসন্মানের ভয়ে মুখফুটে কাওকে বলতেও পারে না অসহায়ত্বের করুণ কাহিনী,সোজাসাপ্টা হাসি দিয়ে বলে দেয় আমি বেশ আছি।কিন্তু তাদের মনে যে জ্বালা এটা শুধু তারা অনুভব করে।শেষ বিচারের দিন সমাজের ধনিকশ্রেণী তাদের দায় এড়াতে পারবে না। আপনার কারণে যদি তাদের মুখে হাসি ফুটে তাহলে শ্রষ্টার দরবারে আপনার চেয়ে সৌভাগ্যবান আর কেউ নয়। শুধু আপনার কারণে যদি তাদের চোখে আনন্দের অশ্রু বয় তাহলে আপনার চেয়ে সুখী আর কেউ হতে পারবে না।
আর এজন্য আমাদের সামর্থ্যবান প্রত্যেকটি মানুষের উচিত এবারের কোরবানিকে হ্যাঁ বলা।নিজে কোরবানি দিয়ে অপরকে উৎসাহিত করা।শেষে একটি কথা আবারও বলি, আপনি চাইলে এই কোরবানিকে মানবতার সেবায় নিবেদিত করতে পারেন।কোরবানি মানেই যদি হয় ত্যাগ, উৎসর্গ করা, তাহলে নিজেকেও একইভাবে বিলিয়ে দেই মানুষের কল্যানে।