কোথাও কেউ নেই

  • 23 Sept
  • 05:45 PM

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি 23 Sept, 20

‘আমার ধুলোবালি জমা বই, আমার বন্ধুরা সব কই। ভাল্লাগেনা এই মিথ্যে শহর, রাতের আড়ালে রই। বার বার মনের কোণে ভেসে উঠে এই কথা। আর কতদিন বাড়িতে থাকবো? প্রিয় ক্যাম্পাস আর বন্ধুদের খুব মিস করি। বেশি মিস করি আড্ডায় কাটানো সময়গুলোকে।’ বলছিলেন ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাসসুম ডানা।

মহামারি করোনা ভাইরাসের কবলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিকেল হলেই এখন আর চোখে পড়েনা মফিজ লেকে প্রেমিক প্রেমিকার মিষ্টি-মধুর গল্প, হাত ধরে পথ চলার দৃশ্য। টিএসএসিসির সিড়িতে নানা সুরের গান। প্রেমিক প্রেমিকার পদযুগলে মুখরিত থাকা পশ্চিম পাড়াও এখন নিস্তব্ধ। দেখা যায়না সন্ধ্যা হলে প্রেমিকের হাত ধরে প্রেমিকার হলে ফেরার দৃশ্য। সন্ধ্যায় প্রেমিকাকে হলে পৌঁছে দিয়ে আবার বন্ধুদের সাথে চায়ের দোকানে চুমুকে চুমুকে জমে উঠতো আড্ডা। রাত হলেই হলের গেটে খাবারের আদান প্রদানও আজ বন্ধ। এমন হাজারও গল্প, কবিতা, গান, খুঁনসুটি আর আড্ডায় ঘেরা ভালোবাসার দিনগুলি সবই কেড়ে নিয়েছে অজ্ঞাতশত্রু করোনা ভাইরাস। থমকে দিয়েছে ক্যাম্পাস জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।

সকাল, দুপুর কিংবা সন্ধ্যা। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো গোটা ক্যাম্পাস। রাত জেগে হলের ছাদে গানের আড্ডা। প্রেজেন্টেশনের জন্য ফরমাল ড্রেস পড়ে ঘুরে বেড়ানো। মনের আনন্দে ছবি তোলা। শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড় করে বাস ধরার প্রতিযোগিতাটিও এখন আর চোখে পড়ে না। দীর্ঘ ক্লাসের একঘেয়েমী কাটাতে ক্যাম্পাসের টং দোকানে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডাটাও আজ বন্ধ। আনন্দঘেরা সেই ১৭৫ একন এখন নিরব। নেই কোন ব্যস্ততা। ফাঁকা ক্যাম্পাস দেখে মনে পড়ে হুমায়ুন আহমেদের সেই উপন্যাসের কথা-‘কোথাও কেউ নেই।’

হঠাৎ ক্যাম্পাসে কেউ প্রবেশ করলে চিরচেনা ক্যাম্পাসকে মনে হবে অপরিচিত। ক্যাম্পাসের মোড়ের দোকান গুলোতে নেই চা চামুচের টুংটাং শব্দ। এখন আর কেউ পড়াশুনা, প্রেম, রাজনৈতিক আলাপচারিতায় মত্ত থাকেনা। দোকানে দোকানে ঝুলছে তালা। ফাঁকা পড়ে আছে প্রাণচঞ্চল টিএসসিসি। বাংলা মঞ্চে কোন অনুষ্ঠানের আয়োয়োজন নেই। সেই ক্যাফেটেরিয়ার টেবিলটিও আজ ফাঁকা। কেউ আর টেবিল চাপড়িয়ে নানা রঙের গানের সুর তোলে না। ক্যাম্পাস আড্ডার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান মফিজ লেক, জিয়া মোড়, ডায়না চত্বর, ঝাল চত্বর, মুক্তবাংলা, শহীদ মিনার চত্বর। এখানে ইবিয়ানদের আড্ডাগুলো আজ আর চোখে পড়ে না। ব্যস্ততম এসব স্থান এখন জনশূন্য।

তবে ক্যাম্পাস একেবারে ফাঁকা হলেও সীমিত পরিসরে খোলা রয়েছে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের কর্তাব্যক্তিরা রয়েছেন প্রশাসনিক কাজে। রয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরাও। ক্যাম্পাসের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন তারা। তবে, তারাও আজ ভালো নেই। সেই আড্ডায় ঘেরা মুখরিত ক্যাম্পাসের স্মৃতি তাদের অন্তরেও নাড়া দিয়ে উঠে।

সাগর নামে এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘এখন বিশ্ববিদ্যালয় একেবারে ফাঁকা। পাখির কিচির মিচির শব্দ কানে ভেসে আসে প্রতিনিয়ত। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে অনেকের সাথে গল্প করে, ছাত্র-ছাত্রীদের চলোফেরা দেখেও সময় ভালোই যেতো। কিন্তু এখন ক্যাম্পাস একদম শুন্য শুন্য লাগে। একদম ঘাপটি মেরে থাকতে হয়। গাছ-গাছালি, প্রকৃতি দেখে সময় কেটে যায়। পরিস্থিতি ভালো হয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক এটাই চাই।’

লেখক: শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া