কেমন কাটছে জবি শিক্ষার্থীদের কোয়ারেন্টাইন জীবন!

  • 04 June
  • 09:13 AM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জবি প্রতিনিধি 04 June, 20

মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে হঠাৎ থমকে গেল এই শহর বলা যায় গোটা বিশ্ব এমনকি প্রাণ প্রিয় চিরচেনা ক্যাম্পাসটাও। করোনা ভাইরাসের সৌজন্যে চলছে এখন পুরো পৃথিবী। অঘোষিত লক ডাউনে দেশ। সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভয়াল করোনা ভাইরাসের কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চাকুরিজীবী, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ তথা ক্রীড়াঙ্গন এবং সিনেমা জগতের ব্যক্তিত্বরা। সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, বন্ধ রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও। লকডাউন হওয়ার ঠিক আগেই অচল হয়ে গিয়েছে গোটা শহর। গৃহবন্দি সকলে। তবে বাসায় থাকা ব্যাপারটা খুব একটা আপত্তি নেই।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর কোয়ারেন্টাইনে থাকা দিনগুলো নিয়ে অনুভূতি তুলে ধরেছেন জবি প্রতিনিধি মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।



"বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সংক্রমিত হওয়ার কারণে এই কোয়ারান্টাইন শব্দটার সাথে আমাদের পরিচয় হয় নতুনভাবে। এই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কোয়ারান্টাইন জীবনটা এক উপকারী পদ্ধতি, যার জন্য সবাই এখন অতিবাহিত করছে এই কোয়ারান্টাইন জীবন। আমার পুরো এই শিক্ষাজীবনের বেশী সময়টা আমার গ্রামেই কেটেছিলো। কিন্তু শিক্ষার তাগিদে যেদিন থেকে বাহিরে ছিলাম তারপর থেকে কখনো এত লম্বা সময় পরিবারের সাথে কাটাতে পারেনি। তাই, এই কোয়ারান্টাইন সময়টা পরিবারের সাথে খুব আনন্দের সাথেই উপভোগ করছি। অনেকদিন থেকে পছন্দের কিছু সাহিত্য পড়বো বলেও ঢাকা শহরের ব্যস্ততার কারণে আর পড়া হয়ে উঠে নি। এই কোয়ারান্টাইন সময়টাকে কাজে লাগিয়ে সেই পড়াটুকু শেষ করে নিয়েছি। সবমিলিয়ে সময়টা ভালোই কাটছে। যদিও বড্ড মিস করছি আমার প্রিয় ক্যাম্পাসটাকে আর ক্যাম্পাসের মানুষগুলোকে। তবুও বলবো এই পরিস্থিতি কাম্য নয়, সুস্থ হোক এই পৃথিবী। আবারো জমজমাট হয়ে উঠুক আমাদের দিনগুলো।"

ফজলে রাব্বি ফরহাদ
১৪তম ব্যাচ, লোকপ্রশাসন বিভাগ।



"সারা বিশ্ব জুঁড়ে চলছে লক-ডাউন। আর আমরা যারা কোয়ারান্টাইনে আছি তারা জানি লক-ডাউনে ঘরের মধ্যে বসে থাকা কতটা কষ্টকর। আমরা কেউই ঘরে বসে থাকতে চাই না।অনেকের কাছেই এটি দু:সহ।ঠিক তেমনি আমার কাছেও এটি খুব কষ্টের মনে হচ্ছে। আজ প্রায় ৬০-৬৫ দিন বাইরের পৃথিবী থেকে নিজেকে বন্দি কারাগারে রেখেছি।সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সুস্থ পৃথিবীতে আগে যেমন প্রানের ক্যাম্পাসে যেতাম, এখন আর তা হয় না।খুব সুন্দর ভাবে মনে পড়ে যায় আমার করণীয় কিছু নাই।যার ফলে ফ্রেশ হয়ে এক রুম থেকে অন্য রুমে শুয়ে বসে কাটাতে হচ্ছে সারাদিন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে বন্ধুদের সাথে। তবে এ সুযোগে পরিবারের সাথে কিছু ভালো সময় কাটাতে পারছি। নিজেকে গৃহবন্দি রাখাই এখন সময়ের আহ্বান। তা না হলে আমি অপি কখনোই গৃহবন্দি থাকতাম না।"

মো:মেহরাব হোসেন অপি
ব্যাচ :১৫তম ব্যাচ, পরিসংখ্যান বিভাগ।



"কোয়ারান্টাইন এর কারণে পরিবারের সাথে একটু বেশি সময় কাটাতে পারছি। ঘরের বিভিন্ন কাজে আম্মুকে সাহায্য করা, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনায় সাহায্য করা তাছাড়া এই সুযোগে নিজের জ্ঞানের পরিধিও বাড়ানোর চেষ্টা করতেছি। যেহেতু বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই তাই সোশ্যাল মিডিয়াতেই বন্ধু- বান্ধবের সাথে যোগাযোগ রাখা। আর আশা করি দ্রুত এই পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠবে আবার চারদিক কোলাহলে মেতে উঠবে।"

আহনাফ তাহমিদ ফাইয়াজ
২য় বর্ষ, একাউন্টিং বিভাগ।