করোনায় ক্লান্তিহীন অবসরঃ কিভাবে সময় কাটছে শিক্ষকদের?

  • 27 Apr
  • 11:58 AM

ইসরাত জাহান, ডিআইইউ প্রতিনিধি 27 Apr, 20

করোনা সংকটে ভূগছে গোটা বিশ্ব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা নানা রকম গবেষণা করেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষেধক আবিস্কার করতে পারে নি। যার ফলে চরম মাত্রায় ভয়াবহ রুপ নিয়েছে এ ভাইরাস। এ যেন উন্নত সভ্যতা আর প্রযুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সফল ভাবে বিশ্ব ভ্রমন করছে। এই ভয়াবহ অবস্থায় পৃথিবী যখন অচল তখনো অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম থেমে নেই। তবে অনলাইন শিক্ষার সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নানান ভোগান্তি।

শিক্ষার সার্বিক কার্যক্রম, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, এবং করোনার অবসর সহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে ভার্সিটি ভয়েসের সাথে কথা বলেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আমিনা মিশু।কথোপকথনে ছিলেন ভার্সিটি ভয়েসের ডিআইইউ প্রতিনিধি,
ইসরাত জাহান।


ভার্সিটি ভয়েসঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম।কেমন আছেন?
আমিনা মিশুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

ভার্সিটি ভয়েসঃ জি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । এখন তো বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মহামারীর মধ্যে আপনারা কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন জানতে চাই?

আমিনা মিশুঃ দেখুন, করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বময় সংকট।বিশ্বের খুব অল্প সংখ্যক দেশই আছে যেখানে এটি তেমন প্রভাব ফেলতে পারে নি।তবে বাংলাদেশে এটি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। করোনার কারণে সকল কাজ কর্ম বন্ধ রয়েছে । এ অবস্থায় আমরা শিক্ষকরাও সাধারণ মানুষের মতো ঘরেই অবস্থান করছি।তবে আমি বই পড়তে খুব পছন্দ করি।তাই আমি নতুন নতুন বই পড়ছি অজানাকে জানার জন্য।এছাড়াও পারিবারিক যে কাজগুলো করব ভেবে করা হয়নি,সেই কাজগুলো আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ করছি।এছাড়াও ফ্যাকাল্টি মেম্বার,ইএলটি মোটিভেশন সিলেবাস,এক্সট্রা কিছু মোটিভেশন,বিভিন্ন বই নিয়ে রিসার্চ করছি। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে আমরা বাসায় বসে অনলাইন ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে করে সবাই দূরে থেকেও কাছে থাকে। মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে পারে। তাছাড়া পুরো বিশ্বেই এখন অনলাইনে ক্লাস নেয়া হয়। শিক্ষকরা শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদের মানসিক ভাবে শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করেন।

ভার্সিটি ভয়েসঃ শিক্ষার্থীরা কিভাবে এই সংকটকে শক্তিতে রূপ দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে?
আমিনা মিশুঃ যেহেতু এটা বৈশ্বিক সংকট,তাই এটা অস্বীকার করার কোন উপায় আমাদের নেই। বিশ্বের সকল মানুষই কোন না কোন ভাবে এ মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তেমনি শিক্ষার্থীদের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম নয়।তবে আশার কথা হচ্ছে আমরা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মধ্যে থাকতে পারে। এতে তাদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এই সংকটকে শক্তিতে রূপ দিয়ে এগিয়ে যাবে। যেহেতু আমরা তাদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি, তাদের যে কোন সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাবো।তারা যেন এই মর্মান্তিক দিনেও আমাদের সাথে থেকে পড়াশোনাটাকে কাজে লাগাতে পারে,মূলত এর জন্যই আমরা অনলাইন ক্লাস চালু রেখেছি।

ভার্সিটি ভয়েসঃ এই মহামারী সংকটে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের সম্ভাবনা আছে কিনা? এই সেশনজট কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারবে?
আমিন মিশুঃ শিক্ষার্থীদের মাঝে সেশনজটের অনিশ্চিয়তা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।একটা সম্ভাবনা তো থেকেই যায়। তবে আমরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি। যদিও সব ধরনের চূড়ান্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সংকট কেটে গেলে আমরা পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্হা করব আশা রাখি।ফলে,আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা থাকবে যেন শিক্ষার্থীরা সেশনজটে না পড়ে। তারা সবসময় আমাদের সাথে যুক্ত থাকবে। আশা করি সেশনজটে পড়বে না।

ভার্সিটি ভয়েসঃএই দুর্যোগের সময়টা শিক্ষার্থীরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
আমিনা মিশুঃআসলে এই সময়টা খুবই ক্রাইসিস।যারা পিওর হোল্ডার আছেন,তারা পড়াশোনার পাশাপাশি লিসেনিং স্পিকিং,বই পড়া, বিভিন্ন রিসার্চ করতে পারেন।যেসব শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য পড়তে পারে না বা সময় পায় না তারা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে পারে।বেশি বেশি বই পড়তে পারে। এতে করে তারা তাদের সময়টাকে পরিপূর্ণ উপলব্ধি করতে পারে।

ভার্সিটি ভয়েসঃ ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাস করে এগিয়ে থাকা সম্ভব কিনা?
আমিনা মিশুঃ হ্যা, অবশ্যই সম্ভব। আমরা ক্লাসে যেভাবে কোর্স প্ল্যান করে পড়াতাম।তেমনি অনলাইনেও কোর্স প্ল্যান অনুযায়ী পড়ানো হয় এবং তাদের থেকে ফিডব্যাক নেয়া হয়। বর্তমান যুগ অনলাইনের যুগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এখন অনলাইনে ক্লাস নেয়া হয়। আমরাও শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে এগিয়ে রাখছি।ফলে তারা ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের এগিয়ে রাখতে পারছে।

ভার্সিটি ভয়েসঃ সাধারণ মানুষের জন্য আপনাদের কোন মেসেজ আছে কিনা?
আমিনা মিশুঃ যেহেতু করোনা একটি বিশ্ব মহামারী, সেহেতু বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এর দ্বারা আক্রান্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশও এই মহামারীতে আক্রান্ত। আমাদের দেশের অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ। এই মহামারীতে তাদের আয় রোজগার নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাহায্য দেয়া হচ্ছে। আরও বেশি বেশি সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিৎ। সরকারের পাশাপাশি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা উচিৎ। সাধারণ মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে – আপনারা নিজেদের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা চিন্তা করে বাসায় অবস্থান করবেন।আমাদের জন্য সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের পরিবারের জন্য নিজেরা যার যার অবস্থান থেকে,যার যার ধর্ম অনুযায়ী সবাই দোয়া করবেন।পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন।জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন। সর্বদা সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন । পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন।সচেতন থাকবেন। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে যাবেন না।“ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন। সুস্থ থাকুন।

ভার্সিটি ভয়েসঃ ভার্সিটি ভয়েস এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমিনা মিশুঃ ভার্সিটি ভয়েসকে ও ধন্যবাদ।